শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৫ ২০:২৫ পিএম
গাজীপুরে জেএল ফ্যাশন লিমিটেড পোশাক (সোয়েটার) কারখানায় কাজ করার সময় শ্রমিক টিঠন মিয়ার ‘হিট স্ট্রোকে’ মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১১ মে) দুপুরে কারখানার উৎপাদন ফ্লোরে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর শ্রমিকরা কারখানার বাইরে কিছুক্ষণ নিহতের সকল পাওনা পরিশোধ ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রম আইন অনুযায়ী সকল পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিলে তারা শান্ত হন। কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কর্তৃপক্ষ ওইদিন বিকাল ৫টায় কারখানা ছুটি ঘোষণা করে।
টিঠন মিয়া নেত্রকোণা জেলা সদর উপজেলার দলপারামপুর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে। তিনি ওই কারখানার ফিনিশিং শাখার সাধারণ অপারেটর (পেকার) পদে চার বছর ধরে কর্মরত ছিলেন।
নিহত শ্রমিকের সহকর্মীরা জানান, লাঞ্চবিরতির পর টিঠন মিয়া সেকশনে এসে কাজে যোগ দেয়। হঠাৎ তার বুকে ব্যথা অনুভব হলে সহকর্মীরা তাকে কারখানার মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে প্রথমে মাওনা চৌরাস্তা আল-হেরা হাসপাতাল ও পরে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিকাল ৫টায় মৃত ঘোষণা করেন।
তারা জানান, অসুস্থ শ্রমিককে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে কারখানা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও অবহেলা রয়েছে। তাদের অবহেলার কারণে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে টিঠন মিয়ার মৃত্যু হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাইদা ইমরোজ জানান, অতিরিক্ত গরমে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শ্রমিক টিঠন মিয়ার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
জেএল ফ্যাশন লিমিটেড পোশাক কারখানার চিফ অপারেটিং অফিসার (সিও) দুশান্তা কুমার বলেন, টিঠন মিয়ার সহকর্মীরা বলেছেন, হঠাৎ তার বুকে ব্যথা ওঠে এবং শরীর ঘেমে যায়। কারখানার মেডিকেল সেন্টারে গেলে চিকিৎসক তাকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দেন। ব্যথা ভালো না হলে তার স্বজনদের জানিয়ে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, কারখানার পক্ষ থেকে নিহত শ্রমিকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং তার পরিবারের কোনো সদস্য এ কারখানায় চাকরি করতে ইচ্ছুক হলে তাকে চাকরি দিয়ে দেবে। তাছাড়া শ্রম আইন অনুযায়ী তার সকল পাওনা পরিশোধ করা হবে।
জেএল ফ্যাশন লিমিটেড পোশাক কারখানার মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সাঈদ শিকদার বলেন, কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও অবহেলার বিষয়ে শ্রমিকেরা যে অভিযোগ জানিয়েছেন, তা সঠিক নয়। টিঠন মিয়া অসুস্থতাবোধ করার সাথে সাথেই কারখানার ব্যবস্থাপনায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর ইনস্পেক্টর আব্দুল লতিফ খান বলেন, শ্রমিক মৃত্যুর খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ওই কারখানায় গিয়ে জানতে পারে অতিরিক্ত গরমে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ওই শ্রমিক মারা যায়। মৃত্যুর খবরে শ্রমিকেরা উত্তেজিত হলে কারখানা কর্তৃপক্ষ নিহত শ্রমিকের সকল ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলে তারা শান্ত হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
জয়দেবপুর থানার ওসি আব্দুল হালিম বলেন, অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে যায়। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ ওই শ্রমিককে হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।