সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৫ ১৬:৩৯ পিএম
নরসুন্দা নদীটি কিশোরগঞ্জ শহরকে দুভাগ করেছে। স্থানীয়দের সুস্থ বিনোদনে উদ্দেশ্যে নদীর শহর অংশের দুই পাড় শোভাবর্ধন প্রকল্পের আওতায় ২০১৬ সালে ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয় নদীর দুই পাশে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে।
পাশাপাশি ভাসমান মুক্তমঞ্চ, গোলাকার বসার স্থান, ঘাট বাঁধা পুকুর, একাধিক সিঁড়ি নির্মিত ঘাটসহ তৈরি করা হয় ওয়াচ টাওয়ার; যা এলাকাবাসীর বিনোদনের কেন্দ্রবিন্দু হলেও প্রবাহহীন নদী এখন কচুরিপানায় ভরা। কচুরিপানা আর নদীতে ফেলা আবর্জনার পচা দুর্গন্ধে নরসুন্দা এখন শ্রীহীন। নদীপাড়ে যেন বসাই কঠিন দর্শনার্থীদের। এতে শহরবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত আবর্জনা ও কচুরিপানা পরিষ্কার করে আবারও নরসুন্দার সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে চায় এলাকাবাসী।
জানা যায়, স্থানীয়দের সুস্থ বিনোদনে নদীর শোভাবর্ধনে ২০১৬ সালে ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্পে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর দুই পাশে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে তৈরি করা হয়। যদিও শুরু থেকেই নিম্নমানের কাজের অভিযোগ থাকার পরও প্রকল্পটি সে বছরই শেষ হয়। কিন্তু ২০১৭ সালের শেষদিকে মাত্র এক বছরের মধ্যেই নরসুন্দার দুই পাড়ে নির্মিত ওয়াকওয়ের কিছু অংশ ভেঙে যাওয়ায় শহরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করে। নরসুন্দা প্রকল্পের কাজ করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। নরসুন্দার দেখভাল করে স্থানীয় প্রশাসন। আবার নরসুন্দা প্রকল্পের সমুদয় অংশের মালিকানা পৌরসভার।
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে চিত্তবিনোদনের কোনো স্থান নেই। তাই নরসুন্দা নদীর গুরুদয়াল কলেজ মাঠ ও আশপাশে পাড়ের শোভাবর্ধন এবং নির্মিত ভাসমান মুক্তমঞ্চ, পার্কের গোলাকার বসার স্থান, ঘাট বাঁধা পুকুর, একাধিক সিঁড়ি নির্মিত ঘাট ও ওয়াচ টাওয়ারের নিচে বসে প্রতিদিন সময় কাটান অসংখ্য দর্শনার্থী। বিশেষ করে সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার কয়েক হাজার মানুষের পদচারণা ও আড্ডায় নরসুন্দার ওই স্থানটি জমজমাট হয়ে ওঠে। কিন্তু তিন মাস ধরে নদীটি কচুরিপানায় ভরে গেছে। পরিণত হয়েছে মশার আবাসস্থলে। আবার কোথাও কোথাও নদীতে কচুরিপানার স্তূপ পচে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে নরসুন্দার দৃষ্টিনন্দন পাড়ে বসাই দায় পড়েছে দর্শনার্থীদের জন্য। ওয়াকওয়েতে সকাল-বিকাল কয়েকশ মানুষ তাদের প্রতিদিনের হাঁটার কাজটি সারলেও স্রোতহীন নরসুন্দার পানি ও কচুরিপানার দুর্গন্ধ পথচারীদের স্বপ্নীল মনকে বিষাদে ভরে দেয়।
নদীপাড়ের ওয়াকওয়েতে প্রতিদিন হাঁটেন চাকরিজীবী আসাদ মিয়া, অসিত উকিল। তারা জানান, নরসুন্দায় কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে নাকে রুমাল চেপে চলতে হয়। দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা এখন সময়ের দাবি।
পরিবার নিয়ে বৈকালিক ভ্রমণে আসা আব্দুর রশিদ বলেন, আগের মতো এখন নরসুন্দাকে সুন্দরী মনে হয় না। চারদিকে ময়লা-আবর্জনা, নদীভর্তি কচুরিপানায় যেন একটি পুকুর হয়ে গেছে। ওয়াচ টাওয়ারে উঠে নদীকে এখন সবুজ নালা মনে হয়।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এরশাদ বলেন, কচুরিপানা পরিষ্কার করা দরকার। তবে কাজটি তার উপজেলা পরিষদের নয়।
কিশোরগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প শেষ হয়েছে ছয় বছর আগে। তাই কচুরিপানা পরিষ্কার করার বিষয়টি অধিদপ্তরের কাজ নয়।
পৌরসভার প্রধান নির্বাহী হাসান জাকির জানান, সবাই দায়িত্ব এড়িয়ে গেলেও পৌর কর্তৃপক্ষকে শহরবাসীর সুবিধা-অসুবিধা দেখতে হয়। তাই সার্বিক পরিবেশ-প্রতিবেশের স্বার্থে তহবিল জোগাড় করে দ্রুতই কচুরিপানা পরিষ্কারের ব্যবস্থা করা হবে।