ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৫ ২২:৪৩ পিএম
চাকরিবিধি না মানায় পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের রূপপুর প্রকল্প ও গ্রিনসিটি বহুতল আবাসিক এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১১ মে) দুপুরে রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রকল্পের নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডে (এনপিসিবিএল) কর্মরত ছিলেন।
এর আগে এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. জাহেদুল হাছান স্বাক্ষরিত দুটি চিঠিতে তাদের অব্যাহতি ও নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানানো হয়। গত শনিবার চিঠি দুটি তারা হাতে পেয়েছেন।
অব্যাহতিপত্রে বলা হয়েছে, এনপিসিবিএলে তাদের আর প্রয়োজন নেই। ৮ মে থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হলো। তবে সবাই নোটিস পেমেন্ট বাবদ তিন মাসের বেতন পাবেন।
প্রকল্প এলাকায় নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ ও আবাসিক এলাকা গ্রিনসিটিতে প্রবেশ বন্ধ করা হলো।’
অব্যাহতি পাওয়া কর্মকর্তারা হলেনÑ এনপিসিবিএলের ডেপুটি চিফ সুপারিনটেন্ড মো. হাসান আলী, ঊর্ধ্বতন সহকারী ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলাম, আবু রায়হান, রফিকুল হাসান, জয়নাল হোসেন, নাঈম আল সাকিব, আবু সাঈদ, একেএম আবদুল্লাহ আল আমিন, শাহ ইখতিয়ার আলম, ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ, সহকারী ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ আল নোমান, আসিফ খান, মোহাম্মদ ইমামুল আরেফিন, মো. ইকরাম, মো. রুহুল আমীন, উপসহকারী ব্যবস্থাপক ইসমাইল হাসেন, রুবেল হোসেন ও টেকনিশিয়ান ফিরোজ আহম্মেদ।
চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের দাবি, ১৮ জন কর্মকর্তা সবাই দক্ষ ছিলেন। তাদের মধ্যে ১২ জন বুয়েট থেকে পাস করা প্রকৌশলী। ১৮ জনই পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয়ে রাশিয়া থেকে একাধিকবার প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ করায় তাদের অবৈধভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তারা এর তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে প্রকল্পের স্বার্থে চাকরি পুনর্বহালের দাবি জানান। অন্যথায় তারা আইনের আশ্রয় নেবেন।
এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাছান বলেন, চাকরিবিধি না মানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কোম্পানির ১৮ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কোম্পানির শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাইড ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস এর সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি সম্পর্কে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত অথরিটির প্রধানকে অবহিত করা হয়েছে। তিনিও বিষয়টি জেনেছেন।
প্রসঙ্গত বেশ কিছুদিন ধরে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদুল হাছানের অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে এনপিসিবিএলে আন্দোলন করে আসছিলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গত ৬ মে তারা ঈশ্বরদী শহরে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেন। ৭ মে প্রকল্প এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেন। তারপরই কর্তৃপক্ষ আন্দোলনে নেতৃত্বে থাকা ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অব্যাহিতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।