যশোর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৫ ২০:৫৬ পিএম
যশোরের ঝিকরগাছায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের অস্ত্রের আঘাতে আশাদুল হক আশা নামের একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১০ মে) বিকালে উপজেলার ছুটিপুর বাজারের জামতলা মোড়ে এই সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গুরুতর আহত অবস্থায় আশাদুল হককে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়।
আশাদুল হক ঝিকরগাছা উপজেলার বালিয়া গ্রামের মৃত আতাউল হকের ছেলে। এ ঘটনায় তার বড় ভাই মহিদুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের বোন নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলা সূত্রে পুলিশ এজাহারনামীয় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তাররা হলেনÑ ওলিয়ার, সাহাঙ্গীর, রাকিব, জনাব আলী, আরব আলী ও আহমেদ আলী। তাদের বাড়ি উপজেলার ছুটিপুর, কাগমারী, মোহাম্মদপুরসহ আশপাশের এলাকায়।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাড়ি বিক্রি করে আশাদুল হক আশা বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। গত ৫ এপ্রিল তিনি ওমান থেকে এলাকায় ফেরেন। শনিবার বিকালে জামতলা মোড় স্থানীয় বিএনপির কার্যালয় থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে বাজারে মহড়া দেন আশা ও তার ভাই মহিদুল। এ সময় বিপ্লব নামের একজনের নেতৃত্বে বিএনপির অপর একটি পক্ষ তাদের বাধা দেয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ড হয় ও সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আশা ও তার ভাই মহিদুল ইসলাম গুরুতর আহত হন।
মহিদুল ইসলামের ছেলে শান্ত ইসলাম বলেন, ‘ছুটিপুর বাজারে জামতলা মোড়ে আমার বাবা ও চাচাকে মোহন, নসু, বিপ্লব, সাদ্দামসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে আহত করেন। পরে অভিযুক্তরা তাদের ভ্যানের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে হাসপাতালে পাঠান।’
ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আশা ও তার ভাই মহিদুল গুরুতর আহত হয়। আশাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসার জন্য ঢামেকে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে, অভিযুক্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।