আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৫ ১৯:৪২ পিএম
বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গাজীপুর-কাঁঠালিয়া সড়কের বাজে সিন্ধুক খালের আয়রন সেতুটি হঠাৎ করেই ভেঙে পড়েছে। শনিবার (১০ মে) সন্ধ্যায় সেতুটি কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই খালে ধসে পড়ে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
জানা গেছে, ২০১০ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে তৎকালীন হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শহীদুল ইসলাম মৃধা ওই সেতুটি নির্মাণ করেন। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরির অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে নির্মাণের মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় এর বিম ভেঙে যায়। এরপর থেকে প্রায় এক দশক ধরে ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি ব্যবহার করে আসছিলেন স্থানীয়রা।
সেতুর দুরবস্থা দেখে চলাচলে স্বস্তি ফেরাতে গত ২৫ এপ্রিল স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে সেতুর পাশে একটি বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। তবে বাঁধের কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই গত শনিবার সন্ধ্যায় সেতুটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। এতে আমতলী, কলাপাড়া ও গলাচিপা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের অন্তত এক লাখ মানুষের চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হলদিয়া ইউপি সদস্য আবু সালেহ বলেন, গত ১৫ দিন ধরে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ করছে। কিন্তু কাজ শেষ না হতেই সেতুটি ভেঙে পড়েছে, এখন মানুষ ও যানবাহনের চলাচলে বড় ধরনের ভোগান্তি হবে।
আমতলী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মৃধা বলেন, ঠিকাদার শহীদুল ইসলাম মৃধা নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে সেতুটি তৈরি করেছিলেন। গত পাঁচ বছর আগে ওই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ চিহ্নিত করেছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই সেতু দিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করত। গত ১৫ দিন ধরে এলাকাবাসী সেতুর পাশে বাঁধ নির্মাণ করছিল। কাজ শেষ না হতেই সেতু ভেঙে পড়েছে। এখন দ্রুত সরকারি উদ্যোগে ওই খালে গার্ডার সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম মৃধার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
আমতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী বলেন, সেতু ভেঙে পড়ার বিষয়টি জেনেছি। ইতোমধ্যে গার্ডার সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।