আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৫ ১৯:৪০ পিএম
জামিনে বের হয়ে আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি হারুন ফকির প্রতিশোধ নিতে খড়ের স্তূপে আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার (১১ মে) বিকালে আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন আড়পাঙ্গাশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক জাকির হোসেন গাজী।
তিনি আরও বলেন, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে দাঁড়িয়ে থাকে হারুন ফকির ও সন্ত্রাসী বাহিনী। সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে আমি বিদ্যালয় যেতে পারছি না। আমার পরিবারের লোকজন ঘর থেকে বের হতে পারছে না। দ্রুত সন্ত্রাসী হারুন ফকির ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
লিখিত বক্তব্যে জাকির হোসেন গাজী বলেন, আমি গত ২২ এপ্রিল আড়পাঙ্গাশিয়া বাজার বাড়ি ফিরছিলাম। পথিমধ্যে হারুন ফকিরের সহযোগী আরিফ হাওলাদার আমাকে তার মোটর সাইকেলে তুলে হারুন ফকিরের বাড়িতে নিয়ে যায়। ওই বাড়িতে নিয়ে আমাকে তার ঘরে আটকে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। আমি মুক্তিপণ দিতে অস্বীকার করায় আমাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে আমি নিরুপায় হয়ে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে রক্ষা পাই। আমি বাড়িতে আসার পরের দিন ২৩ এপ্রিল তাদের দাবিকৃত দুই লাখ টাকা দাবি করেন। পরে আমি নিরুপায় হয়ে ২৭ এপ্রিল আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হারুন ফকির ও তার সহযোগী আরিফ হাওলাদার, অনিক ও আব্দুল হাইকে আসামি করে মামলা দায়ের করি। ওই মামলার পুলিশ প্রধান আসামি হারুন ফকিরকে গ্রেপ্তার করেছে। ওই মামলায় সাত দিন জেল হাজত শেষে গত বুধবার হারুন জামিনে মুক্তি পায়।
জামিনে পেয়েই তিনি ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমাকে ও আমার বড় শ্যালক ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান মোল্লাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এর জেরে গত শনিবার গভীর রাতে আমার শ্যালকের খড়ের স্তূপে আগুন লাগিয়ে দেয়। খবর পেয়ে আমতলী দমকল বাহিনীর লোকজন ঘটনাস্থনে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে অন্তত দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান, মোকলেসুর রহমান মোল্লা, রুহুল আমিন প্রমুখ।
আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন শ্রমিক দল সভাপতি হারুন ফকিরের যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার সহযোগী আরিফ হাওলাদার বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।’
আমতলী থানার ওসি আরিফুর রহমান আরিফ বলেন, ‘কুঁড়েখড়ে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’