চুয়াডাঙ্গা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৫ ১৭:৪৯ পিএম
আপডেট : ১১ মে ২০২৫ ১৭:৫৬ পিএম
তীব্র গরমে গাছের ছায়ায় নিজের ভ্যানে ঘুমিয়ে পড়েছেন চালক। প্রবা ফটো
দক্ষিণ-পশ্চিমের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় টানা চার দিন ধরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করছে। তীব্র গরমে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। দাবদাহে প্রাণিকুলে স্বস্তি নেই, খাঁ খাঁ করছে চারদিক।
রবিবার (১১ মে) বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রার পারদ উঠে ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ২৬ শতাংশ।
এর আগে গতকাল শনিবার একই সময়ে জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন শুক্রবার ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি এবং বৃহস্পতিবার ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এই তিন দিনও চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল।
জেলাটিতে চার দিন ধরে তীব্র থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। রোদের প্রখর তেজে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ, ভাটা পড়েছে তাদের রুজি-রোজগারে।
তেমনই একজনের দেখা মিলল ভ্যানচালক কোরবান আলীর; যিনি গাছের তলায় ভ্যান রেখে তার ওপরেই ঘুমিয়ে পড়েন।
ইজিবাইক চালক হাবিবুর বলেন, তীব্র রোদে মানুষ বাইরে বের হচ্ছে কম। গাড়ি নিয়ে স্ট্যান্ডে আছি। আয়-ইনকাম একদম কমে গেছে। সমিতির ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনছি। এ সপ্তায় কিস্তি দিতে পারিনি।
এদিকে কৃষি-সমৃদ্ধ এ জেলায় তীব্র তাপপ্রবাহে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। প্রতিদিন সেচ দিতে হচ্ছে সবজি ক্ষেতে। কৃষকরা বলছেন, আউশ ধান রোপণ মৌসুমে এ সময় অন্যান্য বছর বৃষ্টি হয়। এবার বৃষ্টির দেখা নেই, উল্টো তাপপ্রবাহ বইছে।
কৃষক আহমদ আলী বলেন, গরমে মাঠে দাঁড়ানোর কায়দা নেই। ক্ষেতে পানি (সেচ) দিতে দিতে শেষ হয়ে গেলাম।
অস্ত যাওয়ার আগ পর্যন্ত সুর্যের তীব্র তেজে পুড়ছে প্রকৃতি। দুপুরের রোদে যেন আগুনের ফুলকি ঝরছে, যেন মরুভূমি বুকে বসবাস। এমন পরিস্থিতিতে রাস্তাঘাটে লোকজনের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। দিনের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও বাড়ছে।
অতি দাবদাহে খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এছাড়াও হিটস্ট্রোক এড়াতে বেশি বেশি পানি পানসহ লেবুর শরবত পান করতে বলা হচ্ছে। এ ছাড়া এ চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন থেকেও অতি দাবদাহে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে যখন এক পশলা বৃষ্টির প্রতীক্ষায় রয়েছে জেলার মানুষ, তখন চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানালেন, আরও দুই দিন অর্থাৎ ১৩ মে পর্যন্ত এ রকম তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে জেলাটিতে। ১৪ তারিখ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তারপর কমতে পারে তাপমাত্রা।