ভিসির পদত্যাগ দাবি
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৫ ১৮:০২ পিএম
প্রবা ফটো
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শূচিতা শরমিনের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে প্রশাসনিক শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তবে ক্লাস পরীক্ষা ও জরুরি সেবা চালু থাকবে বলে জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
সোমবার (৫ মে) দুপুর ১২টা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রান্ডফ্লোরে পূর্বঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর তারা ঘোষণা দেন, আগামীকাল (মঙ্গলবার) বেলা ১১টার মধ্যে উপাচার্য স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা না দিলে প্রশাসনিক কার্যক্রম শাটডাউন করে দেওয়া হবে।
আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘আমরা আগামীকাল থেকে প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছি, যদি উপাচার্য (মঙ্গলবার) সকাল ১১টার মধ্যে পদত্যাগ না করেন। তবে যাদের পরীক্ষা ও ক্লাস চলছে তাদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে বিবেচনা করে একাডেমি কার্যক্রম চলবে। এরপরও যদি উপাচার্য পদত্যাগ না করেন পরশু (বুধবার) থেকে দক্ষিণাঞ্চল অচল করে দেওয়ার মতো কঠোর কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হব।’
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোকাব্বেল শেখ বলেন, ‘স্বৈরচারী মনোভাবের এই উপাচার্যকে অতিদ্রুত পদত্যাগ করতে হবে। এই উপাচার্য প্রশাসনে একের পর এক ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন শুরু করেছেন। উপাচার্যের এসকল অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করলে অন্যায়ভাবে মামলা দেন। আমরা আন্দোলন করছি, আগামীকাল থেকে প্রশাসনিক শাটডাউনসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
জুলাই আন্দোলনে অন্যতম সমন্বয়ক ও বরিশাল মহানগরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ বলেন, ‘বিভিন্ন দাবি নিয়ে তিন সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চলছে, তিনি চাইলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসতে পারতেন, কিন্তু তিনি শিক্ষার্থীদের কোনো দাবিতে কর্ণপাত করেননি। এই ভিসি শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা ইউজিসিকে আহ্বান করছি অবিলম্বে এই ভিসিকে অপসারণ করতে হবে এবং একজন সৎ ও যোগ্য ভিসিকে নিয়োগ দিতে হবে।’
গত ১৭ এপ্রিল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে স্বৈরাচারের পুনর্বাসন ও জুলাই আন্দোলনের পক্ষে অবস্থানকারীদের হয়রানির অভিযোগ তুলে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের ১৮ দিনের মাথায় শিক্ষার্থীরা উপাচার্য পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা।