অরণ্য ইমতিয়াজ, টাঙ্গাইল
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৫ ১৩:১১ পিএম
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার আজিম উদ্দিনের মোড় থেকে খগেন ঘাট পর্যন্ত সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় এভাবেই দুর্ভোগ সঙ্গী করে যাতায়াত করেন এলাকাবাসী।
সড়কটির কোথাও মাটি ধসে গেছে, কোথাও ইট-খোয়া উঠে গেছে। আবার কোথাও যমুনার ভাঙন প্রতিরোধী জিও ব্যাগের অস্তত্ব টিকে আছে মাত্র। অথচ এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন প্রায় দশ হাজার মানুষের যাতায়াত। বিশেষ করে প্রতি সপ্তাহের রবি ও বুধবার শাহজানী হাটে আসা-যাওয়া করেন স্থানীয় ও আশপাশের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা সদর থেকে শাহজানী যাওয়া পথে আজিম উদ্দিনের মোড় থেকে খগেন ঘাট পর্যন্ত সড়কটি এমনই বেহাল। অথচ এটি টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর ও সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার একমাত্র সংযোগ সড়ক। মাত্র দুই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটি এক যুগ ধরে এমনই পড়ে আছে প্রায় অস্তিত্ব হারিয়ে। সড়কের উত্তর অংশ যমুনার করালগ্রাসে বিলীন হয়ে গেছে, মাঝখান ও দক্ষিণ অংশও যেন স্রোতের থাবায় ক্ষতবিক্ষত।
বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সড়কের আজিম উদ্দিনের মোড় থেকে উত্তরদিকটি বেহাল। সেখানকার কিছু অংশ ধসে গেছে। যমুনা নদীর পূর্বাংশে ভাঙন প্রতিরোধে নির্মিত বাঁধের জিও ব্যাগের বস্তা সড়কের পাশে থাকলেও অনেক জায়গায় সে বস্তাও সরে গেছে। উত্তর অংশে নদীর প্রবল স্রোতে ভেঙে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল গর্তের। তার পাশে বালি জমে সড়কই যেন হারিয়ে গেছে।
মাওলানা আব্দুস সালাম, মো. আবুল কালামসহ সড়কের আশপাশের বাসিন্দারা জানান, একসময় এই সড়কটি পাকা ছিল। এ পথে প্রতিনিয়ত বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করত। মালামাল শাহজানী হাটে আনা-নেওয়া করা হতো। সে ট্রাক নাগরপুর হয়ে ঢাকা চলে যেত। এক যুগ আগে যমুনার প্রবল স্রোতে সড়কের দক্ষিণ পাশ ভাঙে। তখন থেকে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আট বছর আগে উত্তর অংশের অনেক জায়গা যমুনার স্রোতের তোড়ে ভেসে যায়। তারপর থেকে এ সড়কের যাতায়াত করতে ভোগান্তি পোহাতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাসহ হাটে বিকিকিনি করা ব্যবসায়ীদের।
স্থানীয় ভ্যানচালক আবুল হোসেন বলেন, সড়ক এত ভাঙা আর গর্তে ভরা যে ভ্যান চালাতে খুব কষ্ট হয়। পণ্য নিয়ে চলাচলে প্রায়ই ভ্যানের ক্ষতি হয়।
সড়কের পাশের মারমা গ্রামের বাসিন্দা আব্বাস মোল্লা বলেন, একদিকে রোদ, অন্যদিকে সড়কের গরম বালি, হেঁটে চলাচল কঠিন ও খুবই কষ্টের। খুব সমস্যা হয়। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের লোকজন আসে, সড়কটি মেপে যায় কিন্তু সড়ক আর ভালো হয় না।
স্থানীয় ভারড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবুর বকর বলেন, আজিম উদ্দিন মোড় থেকে খগেন ঘাট পর্যন্ত সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন প্রায় দশ হাজার লোক যাতায়াত করেন এ সড়কে। আর হাটের দিন অন্তত ১৫ হাজার মানুষের যাতায়াত করতে হয়। সড়কটি শুধু সংস্কার নয়, নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। সাবেক এমপির মাধ্যমে একটি প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। একাধিকবার মাপাও হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। গত ৫ আগস্টের পর চেয়ারম্যান হিসেবে তো কাজও করতে পারছি না।
ভারড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (প্যানেল চেয়ারম্যান) জাকির হোসেন বলেন, সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ, এটি সংস্কার না করে পুনর্নির্মাণ করতে হবে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা শেষে সড়কটি পুনর্নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীপ ভৌমিক বলেন, এলাকার এবং মানুষের উন্নয়নে যেকোনো প্রয়োজনে সেটি বাস্তবায়নের জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করা হবে। খগেনঘাট-আজিমউদ্দিন সড়কের ব্যাপারে কোনো প্রস্তাবনা এলে সেটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।