শফিক সরকার, ময়মনসিংহ
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৫ ১৩:০৫ পিএম
ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে গড়ে উঠেছে ভাষাসৈনিক এমএ মতিন নামে একটি পাঠাগার। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে এটি পরিচালিত হচ্ছে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন পার্কের পশ্চিম কোণে পাঠাগারটি অবস্থিত। নদের পাড়ে মনোরম পরিবেশে এই পাঠাগারটি শুধু বই পড়ার জন্য নয়, বরং জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তক পড়ারও নিরাপদ একটি স্থান।
ভাষা আন্দোলনের গর্বিত সৈনিক এম এ মতিনের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য পাঠাগারটি তার নামাঙ্কিত।
তিনি ছিলেন একাধারে ভাষাসংগ্রামী, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী। তার অবদানকে স্মরণীয় করে
রাখতে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ২০১৫ সালে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পুনঃসংস্কারের
পর গত বছরে এটি নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে।
পাঠাগার ভবনটি স্থাপত্যগত সৌন্দর্যে
যেমন অনন্য, তেমনি এর ভেতরে রয়েছে পাঠকের জন্য চমৎকার পরিবেশ। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই
পাঠাগারে বই রয়েছে প্রায় তিন হাজার ও জাতীয় ১০টি দৈনিক পত্রিকা। এতে ইতিহাস, সাহিত্য,
বিজ্ঞান, দর্শন, রাজনীতি, শিশুসাহিত্যসহ নানা বিষয়ভিত্তিক মূল্যবান বই রয়েছে।
সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয় পাঠাগারটি। রবিবার সাপ্তাহিক
বন্ধ রাখা হয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পাঠকদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। পাঠাগারে বসার জন্য
৫৪টি আসন রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানান, পাঠকের যে চাপ তাতে আসন সংকটে পড়তে হয়। সিটি
করপোরেশনের ৬ জন স্টাফ দুই শিফটে ডিউটি পালন করে থাকে। দিনভর বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের
শিক্ষার্থীরা পাঠ্যপুস্তক নিয়েও সময় পার করেন এখানে।
পাঠাগারে কথা হয় বই পড়তে আসা সাইবার
কমিউনিটির প্রতিষ্ঠাতা সাকিব আহমেদ তুহিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ইট-পাথরের এই ব্যস্ত
শহরে মানুষ এখন ইন্টারনেটমুখী। খবর পেতে কেউ আর লাইব্রেরিতে গিয়ে পত্রিকার পাতায় চোখ
রাখে না। স্ক্রলেই সব পেয়ে যায়। কিন্তু লাইব্রেরির নীরবতা, পরিবেশ আর কাগজের গন্ধে
ভরা একটি পত্রিকা পড়ার অভিজ্ঞতা যে আত্মিক শান্তি দেয়Ñ তা কোনো স্ক্রিনে পাওয়া যায়
না। মানুষদের বই পড়া আগ্রহ করে তোলায় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের এমন উদ্যোগকে
সাধুবাদ জানাই।’
বই পড়তে আসা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী নুসাইবা ইসলাম নীহা
বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো উদ্যোগ। পার্কে বেড়াতে আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ
একটু সময়ের জন্য পত্রিকা ও বই পড়তে পারেন। তবে আসন সংখ্যা কম থাকায় অনেকে ফেরত যেতে
হয়।’ তিনি আসন সংখ্যা বাড়ানোর জন্য সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
পাঠাগাররের সহকারী লাইব্রেরিয়ান সুমন মন্ডল বলেন, ‘এই পাঠাগার শুধু বই পড়ার জায়গা
নয়। এটি এখন একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য
নারী-পুরুষ ছুটে আসেন এই পাঠাগারে। আমরা চাই নতুন প্রজন্ম বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে
তুলুক, ইতিহাস জানুক।’
এই বিষয়ে ময়মনসিংহ সিটি
করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মজিদ বলেন, পার্কে ঘুরতে আসা মানুষদের বইমুখী
করার ইচ্ছে থেকে এই পাঠাগার গড়ে তোলা হয়েছে। দিনদিন পাড়কের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে
কলেজ ভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ভিড় থাকে পাঠাগারে। আসন সংখ্যা ও জায়গা বাড়ানোর পরিকল্পনা
রয়েছে কর্তৃপক্ষের।