অরুপ রতন, বগুড়া
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৫ ১৫:৩৪ পিএম
জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত র্যাবিস ভ্যাকসিন ও সিরিঞ্জ সংকট কাটেনি বগুড়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে। এতে কুকুর-বিড়ালের কামড় ও আঁচড়ে আহতরা হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে এসে সেবাবঞ্চিত হচ্ছে। বাধ্য হয়েই অনেক রোগীকে উচ্চমূল্যে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন ও সিরিঞ্জ কিনে টিকা নিতে হচ্ছে, এতে বাড়ছে ভোগান্তি। বাইরে থেকে টিকা ও সিরিঞ্জ কিনতে গিয়ে অনেকের পকেটেই চাপ পড়ছে। আবার অনেকে টিকা সংগ্রহ করতে না পেরে নিরুপায় হয়ে ফিরে যাচ্ছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের জলাতঙ্ক প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ টিকাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, কুকুর ও বিড়ালের কামড় বা আঁচড় খাওয়া রোগীদের দীর্ঘ লাইন। কিন্তু নার্সরা রোগীদের জানাচ্ছেন, হাসপাতালের স্টকে ভ্যাকসিন নেই। ফলে রোগীদের বাইরের ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন ও সিরিঞ্জ কিনে আনতে বলা হচ্ছে। সেবাদানকারী নার্সদের ভাষ্য, কুকুরের তুলনায় এখন বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি।
চেলোপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাধনা রানী দাস জানান, গত পরশু দিন কুকুর কামড়ানোর পর হাসপাতালে জরুরি বিভাগে চিকিৎসক দেখাই। তিনি ভ্যাকসিন নিতে বলেন। কিন্তু ভ্যাকসিন নিতে গেলে জানানো হয়, সরবরাহ নেই। পরে চারজন মিলে বাইরে থেকে ৫০০ টাকায় একটি ভ্যাকসিন, ২৭০০ টাকায় আর একটি ভ্যাকসিন এবং ৪০ টাকায় চারটি সিরিঞ্জ কিনে এনে টিকা নিতে হয়।
শিবগঞ্জ উপজেলার মিজানুর রহমান বলেন, গ্রাম থেকে হাসপাতালে এসে জানতে পারি, বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে আনতে হবে। চারজন মিলে কিনলেও সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লেগেছে। একটা ভ্যাকসিন নিতে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।
একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা বলেন, গরিবের পক্ষে বাইরে থেকে ৫০০ টাকার টিকা কেনা সম্ভব নয়। ফ্রি ভ্যাকসিনের আশায় হাসপাতালে এসে হতাশ হতে হচ্ছে।
শহরের একাধিক ফার্মেসিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে র্যাবিস ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে, তবে দাম বেশি। এ অবস্থায় অনেকে চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন। ফলে জলাতঙ্কের মতো প্রাণঘাতী রোগের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত ভ্যাকসিন সংকট নিরসন না হলে জলাতঙ্কের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি কুকুর ও বিড়ালের নিয়ন্ত্রণেও আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন তারা।
মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আরএমও ডা. সাইফুর রহমান শাহীন বলেন, প্রতিদিন প্রচুরসংখ্যক কুকুর ও বিড়ালের কামড়ানো রোগী হাসপাতালে আসছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সরবরাহকৃত ভ্যাকসিনের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কাজী মিজানুর রহমান বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়মিত চাহিদা পাঠাচ্ছি এবং দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহের চেষ্টা চলছে। শহরেও কুকুরের সংখ্যা বেড়েছে, তাই এটি নিয়ন্ত্রণে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা বলেন, কুকুর নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।