আবদুল্লাহ আল-মামুন, ফেনী
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৫ ১৫:২৭ পিএম
আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৫ ১৫:৩৫ পিএম
দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের মোমারিজপুর ছোট ফেনী নদীর ওপর নির্মিত সেতু।
সেতু আছে। নেই সংযোগ সড়ক। ফেনীতে এ রকম সেতু আছে ৪টি। দাগনভূঞা, সোনাগাজী ও ছাগলনাইয়ায় এগুলো অস্তিত্ব ঘোষণা করে যাচ্ছে।
সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ের সেতুগুলো কাজে আসছে না। অথচ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সময় কয় বছর আগেই শেষ হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর অবশ্য সংযোগ সড়ক তৈরি গৎবাঁধা নিয়েমে আশ্বাসবাণী শুনিয়ে যাচ্ছে। আর যদি সত্যিই আশ্বাসবাণী বাস্তবায়িত হয়, তাহলে চারটি সেতু নির্ঘাত চলাচল উপযোগী হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফেনীর দাগনভূঞা, সোনাগাজী ও ছাগলনাইয়ায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি সেতু নির্মাণ করছে এলজিইডি। এর মধ্যে দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা থেকে বেকের বাজার সড়ক ও ছোট ফেনী নদীর ওপর ৬০ মিটার ব্রিজ ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করেন মেসার্স ছালেহ আহমদ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কাজের মেয়াদ শেষ হলেও এখনও সেতুর সংযোগ সড়কসহ ৩০ ভাগ কাজ বাকি শেষ হয়নি বলে সূত্র দাবি।
অন্যদিকে একই উপজেলার উত্তর জায়লস্কর থেকে ওমরপুর যাতায়তের জন্য সিলোনিয়া নদীর ওপর সংযোগ ব্রিজ নির্মাণ করে মেসার্স হক ট্রেডার্স নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮১ মিটার সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু কাজের মেয়াদ শেষ হলেও সেতুর সংযোগ সড়কের জায়গার জটিলতায় ৭ ভাগ কাজ অসম্পন্ন।
এ ছাড়া ছাগলনাইয়া মহামায়া ইউনিয়নে মুহুরী নদীর ওপর ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৬ মিটার মাওলানা ওবায়দুল হক সংযোগ সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সোনাগাজীর নবাবপুর থেকে ভোরবাজারে যাতায়াতের জন্য কালিদাস পাহালিয়া নদীর ওপর ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৬ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলেও এখনও সেতু দুটির সংযোগ সড়কের জমি জটিলতার ফলে সেতু ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
মোমারিজপুর এলাকার আবদুল কালাম ধনা মিয়া জানান, ‘সেতু আমাদের উপকারের জন্য করা হয়েছে। কিন্তু ভেবে দেখলে উপকারের বদলে এখন ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতুতে ওঠার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। সেতুর ওপরে উঠতে হলে মই দিয়ে উঠতে হবে। সেতুর সঙ্গে আমার দোকান। সেতু বানাতে গিয়ে ঠিকাদার আমার দোকান ভেঙে দিয়েছে। বলেছিল সেতু নির্মাণ শেষে আমার দোকান ঠিক করে দেবে। কিন্তু সেতুর কাজ বাকি রেখে ঠিকাদার এখান থেকে পালিয়ে গেছে।’
সোনাগাজীর নবাবপুর ইউনিয়নের নূর হোসেন জানান, ‘কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ বানানো হয়েছে। তবে এলাকাবাসী ব্যবহার করতে পারছে না।’
মোমারিজপুর গ্রামের ফাতেমা খাতুন ও রহিমা বেগম জানান, সেতুর কাজের সময় নদীতে বাঁধ দেওয়া হয়। বন্যার সময় সেই বাদ দিয়ে পানি যেতে পারেনি। আমাদের বাড়ির ওপর দিয়ে পানি গড়িয়ে যায়। যার ফলে আমাদের ঘরবাড়ি, টিউবওয়েল, বাথরুমের কিছু অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। বাকি অংশটুকু যাওয়ার পথে।’
ফেনীর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ আল ফারুক বলেন, ‘৪টি সেতুর মধ্যে ৩টির সেতুর সংযোগ সড়কের জায়গা অধিগ্রহণ করতে হবে। জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সেতুর কাজ বন্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে জমি অধিগ্রহণের চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে। আশা করছি ৪টি সংযোগ সড়কের জায়গা নিয়ে যে জটিলতা তা সহাসই কেটে যাবে।
ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সেতু হয়েছে। সংযোগ সড়কের অভাবে তা ব্যবহার উপযোগী করে তোলা যাচ্ছে না। কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সমস্যার সুরাহা হবে বলে আশা করি। জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে ৪টি সেতু চলাচল উপযোগী করা হবে।’