× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পাহাড় কেটে হচ্ছে ভবন

ফুয়াদ মোহাম্মদ সবুজ, মহেশখালী (কক্সবাজার)

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৫ ০৯:০২ এএম

মহেশখালী গোরকঘাটা প্রধান সড়কের পাশে পানিরছড়ায় পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ চলছে। প্রবা ছবি

মহেশখালী গোরকঘাটা প্রধান সড়কের পাশে পানিরছড়ায় পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ চলছে। প্রবা ছবি

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পানিরছড়া এলাকায় পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে পাহাড় কেটে চলছে বহুতল ভবন নির্মাণ। পাহাড় কেটে দালানটি নির্মাণ করছেন ওই এলাকারই মৃত শফিউল আলমের ছেলে কাউছার হোসেন নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় চলছে এ নির্মাণ যজ্ঞ। তবে ভবন মালিকের দাবি, এই জায়গা আমার দাদার বন্দোবস্ত নেওয়া। ডিসি অফিস ও বন বিভাগের অনুমতি নিয়েই কাজ করছেন তিনি।

সরেজমিন দেখা যায়, সরকারি ১২ নম্বর পাহাড়ি জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন কাউছার। সাংবাদিকের উপস্থিতি দেখে প্রথমে রাগান্বিত ও পরে দাম্ভিকতার সুরে কিছু নথি এনে দেখিয়ে বলেন, ‘এই জায়গা আমাদের পূর্বপুরুষদের। আমি ওয়ারিশ সূত্রে জমির মালিক হয়েছি। আর ডিসি অফিস ও বন বিভাগের অনুমতি নিয়েই কাজ করা হচ্ছে।’ 

তবে পাহাড় কেটে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি কাউছার। পরিবেশ রক্ষা আইন অনুযায়ী পাহাড় কেটে কোনো স্থাপনা নির্মাণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তিনি।

স্থানীয় আবদুল করিম মাস্টার ও নেজাম উদ্দিন নামে দুই ব্যক্তি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের চোখের সামনে এখানে পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণের কাজটি চললেও তা ঠেকাতে দৃশ্যত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায়নি। কোনো বাধা দিতেও কাউকে দেখা যায়নি। অবস্থাদৃষ্টে অনুমেয় স্থানীয় বন বিভাগ, এসিল্যান্ড ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই যেন ভবনটি তৈরি করছেন কাউছার। 

স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ, শিক্ষক ও বাসিন্দারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, এভাবে পাহাড় কাটার ঘটনা যদি চলতেই থাকে, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে মহেশখালীতে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটবে। প্রশাসনকে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট রিদুয়ানুল হক বলেন, ২০০০ সালের জাতীয় পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের বিধান অনুযায়ী, কোনো পাহাড় কাটা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ এবং ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য। পাহাড় কাটলে ভূমিধস, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের বিনাশসহ নানা রকম পরিবেশগত দুর্যোগের আশঙ্কা থাকে। তবুও বছরের পর বছর ধরে নানা অজুহাতে মহেশখালীর বিভিন্ন পাহাড়ে অবৈধ দখল ও নির্মাণকাজ চলছে।

ভূতত্ত্ববিদদের মতে, ‘ভারী ভারী বৃহদাকার প্লেট পৃথিবীর ওপরের শক্ত স্তর সৃষ্টি করে, সেগুলোর নড়াচড়া আর সংঘর্ষের ফলেই উৎপত্তি ঘটে পর্বতমালার। পর্বতমালা হচ্ছে পৃথিবীর জন্য বিশাল একটা রক্ষাকবচ। অথচ পাহাড়গুলোর রক্ষণাবেক্ষণ না করে বরং পাহাড় কেটে সমতল বানাচ্ছে। তছরুপ করে পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে মানুষ। বাংলাদেশেও পাহাড়-পর্বতগুলো তছরুপের শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পাহাড়ের মাটি কেটে নেওয়া, অবাধে বৃক্ষনিধন, পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বসতি গড়ে তোলা। ফলে ভূতাত্ত্বিক গঠন নষ্ট হয়ে পাহাড় ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই বিপর্যয়ের সঙ্গে আবার অতিবৃষ্টি যোগ হয়ে পাহাড় ধসে পড়ছে। আমাদের দেশের কিছু ভূমিদস্যুরা পাহাড় দখল করে সমতল বানানোর প্রচেষ্টায় মাটি কেটে নেওয়ায় পাহাড়গুলো ধসে পড়ছে। পাহাড়ের মাটি কাটার দরুন প্রবল বর্ষণে মাটির স্তরে স্তরে জলের স্রোত প্রবেশ করে পাহাড়ের মাটিকে গলিয়ে ফেলে, অথবা ফাটল সৃষ্টি করে নিচের দিকে ধসে পড়ে। পরিবেশগত দুর্যোগের আশঙ্কা থাকে। 

পরিবেশ বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মহেশখালী শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিকের মতে, মহেশখালী উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় এখানকার পাহাড়গুলোর পরিবেশগত গুরুত্ব অপরিসীম। এখানে বহু বিরল প্রজাতির বৃক্ষ, পাখি, বন্য প্রাণী এবং জলাশয় রয়েছে। এসব পাহাড় কেটে নির্মাণ হলে পরিবেশ শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, দীর্ঘমেয়াদে মানুষ ও জীববৈচিত্র্য ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।

মহেশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা চাকমা বলেন, পানির ছড়া এলাকায় পাহাড় কেটে বাড়ির নির্মাণের তথ্য পেয়ে তৎক্ষণাৎ হোয়ানক ইউনিয়নের তহশিলদারকে সরেজমিন পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করতে বলেছি, আপাতত কাজ বন্ধ। দ্রুত সময়ে ভবন মালিক জমির নথি নিয়ে আমাদের যোগাযোগ করার কথা রয়েছে। এ ছাড়াও পাহাড় কেটে ঘর করার বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এ বিষয়ে উপজেলা বন কর্মকর্তা এনামুল হকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা দিলেও কোনো উত্তর দেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা