গাইবান্ধা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২২ ১৫:০৫ পিএম
বধ্যভূমির জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে করাতকল। ছবি : প্রবা
স্বাধীনতার ৫১ বছরেও সংরক্ষণ করা হয়নি গাইবান্ধার বধ্যভূমি। বরং সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে স্টেডিয়াম, দোকান, মাছের ঘের, করাতকলসহ নানা স্থাপনা। লাল সবুজের পতাকা ছিনিয়ে আনা বীরদের সম্মান জানাতে বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও অধিকাংশই অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে রয়েছে।
মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত গণকবর বা বধ্যভূমি। তাই শহীদ পরিবারের দাবি, এগুলো সংরক্ষণে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার।
শহীদ পরিবারের সদস্য জয়া প্রসাদ বলেন, ‘গাইবান্ধার ৭ উপজেলায় ৩০টি বধ্যভূমি রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি সংরক্ষণ করা হলেও বেশিরভাগ এখনো অরক্ষিত, বেদখল হয়ে পড়ে আছে অযত্ন অবহেলায়।’
মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার তারেক আলী বলেন, ‘একাত্তরের ১৭ এপ্রিল থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ব্যবসায়ীদের দোকান লুট, বাড়ি ঘর দখল, অগ্নিসংযোগ, নারীদের উপর অমানবিক পাশবিক নির্যাতন চালাতে থাকে। মহুকুমা শহরসহ থানা সদর ও বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ও রাজাকার বাহিনীর ক্যাম্পগুলো হয়ে ওঠে মূল নির্যাতন কেন্দ্র।
‘বিভিন্ন স্থান থেকে মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারণ মানুষকে ধরে এনে পৈশাচিক নির্যাতনের পর অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়। মাটিচাপা দেয়া হয় গাইবান্ধা স্টেডিয়ামসহ পাশের গোডাউন, রেল লাইন ও আশপাশের এলাকায়।’
তুলসিঘাটের নান্দিনার গণহত্যা, পলাশবাড়ির কাশিয়াবাড়ি গণহত্যা, গোবিন্দগঞ্জের পাখড়া গ্রামের গণহত্যা। বোনার পাড়ার রেলের লোকোশেডের গণহত্যা, দলদলিয়া গণহত্যা, কামারজানী গণহত্যা, ফুলছড়ির গণহত্যাসহ অসংখ্য গণত্যার স্মৃতি চিহ্ন এসব বধ্যভূমি।
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাহমুদুল হক শাহাজাদা বলেন, ‘বধ্যভূমি অবৈধ দখল করে গড়ে উঠেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কোনটা রয়েছে প্রভাবশালীদের দখলে, কোথাও খাল, পুকুর জলাশয় ও মাছের ঘের করা হয়েছে। আবার কোথাও করাতকল বসিয়ে চলছে ব্যবসা। দেখভালের অভাবে অবৈধ দখলদাররা যে যেভাবে পারে ব্যবহার করছে।
গাইবান্ধা বধ্যভূমি সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক জি এম চৌধুরী মিঠু বলেন, ‘৩০টি বধ্যভূমির মধ্যে মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার কবর স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। আর অধিকাংশ পড়ে আছে অবহেলায়। নতুন প্রজন্ম অনেকেই জানেই না বধ্যভূমিগুলো কোথায় অবস্থিত।’
শহীদ পরিবারের সন্তান প্রবীর চক্রবতী, আক্ষেপ করে বলেন, ‘বধ্যভূমি সংরক্ষণের অভাবে প্রতিদিন না হলেও অন্তত বিভিন্ন দিবসগুলোতে একটি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারে না তাদের প্রিয় স্বজনদের জন্য।’