ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২২ ১৪:১২ পিএম
আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২২ ১৪:৫০ পিএম
র্যালিতে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধারা। প্রবা ফটো
আজ ৬ ডিসেম্বর। ঝিনাইদহ হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয়েছিল ঝিনাইদহ। দিবসটি উপলক্ষে দুপুরে শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বর থেকে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ডিসি কোর্ট চত্বরে এসে শেষ হয়। এতে অংশ নেন জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দেড় শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক কমান্ডাররা।
পরে পুরাতন ডিসি কোর্ট মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা প্রশাসক মনিরা বেগম, পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মকবুল হোসেনসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে লালন করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মকবুল হোসেন স্মৃতিচারণা করে বলেন, ৫ ডিসেম্বর রাতে তৎকালীন কমান্ডার ফকির মাহমুদের নেতৃত্বে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। তারা মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলা পার হয়ে সদর উপজেলার শৈলমারী বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। অন্যদিকে তার নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা জেলার উত্তরে শৈলকুপা উপজেলার ভাটই ও গাড়াগঞ্জে অবস্থান নেয়। দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায় অবস্থান নেয় আরেক দল মুক্তিযোদ্ধা। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শৈলমারী বাজার থেকে মুক্তিকামী দামাল ছেলেরা পাক সেনাদের অবস্থানের ওপর গোলাবর্ষণ শুরু করে। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে পাক বাহিনী।
এই বীর মুক্তিযোদ্ধা আরও জানান, প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) আগুন ধরিয়ে দিয়ে ক্যাডেট কলেজে অবস্থান নেয় পাক সেনারা। দুপুরের আগে শৈলমারী বাজার, শৈলকুপা ও বিষয়খালীর পূর্বপাশ থেকে মুক্তিযোদ্ধারা মার্চ করে শহরের দিকে আসতে শুরু করেন। দুপুর ২টার দিকে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী একসঙ্গে হামলা করলে মাগুরার দিকে পালিয়ে যায় হানাদাররা। আর বেলা আড়াইটার দিকে হানাদারমুক্ত হয় ঝিনাইদহ। রাস্তায় নেমে উল্লাস করে হাজার হাজার মানুষ। আর স্বাধীন বাংলার জন্য শুরু হয় অপেক্ষা।