× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সময় ও ব্যয় বাড়িয়েও অর্ধেক কাজ

ফুয়াদ মোহাম্মদ সবুজ, মহেশখালী (কক্সবাজার)

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৫ ১০:৫১ এএম

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৫ ১০:৫৯ এএম

সময় ও ব্যয় বাড়িয়েও অর্ধেক কাজ

কক্সবাজার জেলার মহেশখালী দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগের প্রধান মাধ্যম কক্সবাজার-মহেশখালী নৌপথ। এই নৌপথের উন্নয়নের নামে প্রকল্প বিলম্ব এবং পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের ফলে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্পের অনিয়ম, গাছ কাটার মাধ্যমে পরিবেশ ধ্বংস এবং যথাসময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ৩৭ কোটি টাকার প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়ায় এখন এর ব্যয় ৪০ কোটি টাকারও বেশি হয়েছে। সময়সীমা একাধিকবার বাড়ানো হলেও প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ হয়নি। প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ২৭ জুন শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু কচ্ছপগতিতে কাজ চলায় এখন পর্যন্ত ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পুরোনো জেটির পাশে ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে হাজারো বাইনগাছ কেটে নতুন জেটি বানানোর প্রকল্প হাতে নিয়েছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি)। পরে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে আপত্তি জানায় বন বিভাগ। এ নিয়ে প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় বন বিভাগ ও এলজিইডির মধ্যে আলোচনার কথা থাকলেও ফলপ্রসূ কোনো সিদ্ধান্তে আসেনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে। ফলে প্যারাবনের হাজারো বাইনগাছ কেটে প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করে এলজিইডি।

এলজিইডি কর্তৃক মহেশখালী জেটিঘাটের নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে হাজারো বাইনগাছ কাটা হয়েছে, যা উপকূলীয় বাসিন্দাদের জন্য একটি অশনিসংকেত। ২০০৩-০৪ অর্থবছরে বন বিভাগ যে বাইনবাগান গড়ে তুলেছিল, তা এখন বিলুপ্তির পথে। পরিবেশবিদদের মতে, এই বাইনগাছগুলো উপকূলীয় এলাকার সুরক্ষায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু নতুন জেটি নির্মাণের নামে এই গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষণ শেখ আবুল কালাম আজাদ জানান, এলজিইডি কর্তৃপক্ষ আমাদের মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেই কাজ শুরু করেছে, তবে আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত গাছ কাটার অনুমতি সংক্রান্ত কোনো লিখিত চিঠি আসেনি। এটা পরিবেশগতভাবে মারাত্মক ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত।

নতুন জেটি নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরুর পর থেকেই নানা অনিয়ম এবং বিলম্বের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৩৭ কোটি টাকার প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়ায় এখন এর ব্যয় ৪০ কোটি টাকারও বেশি হয়েছে। সময়সীমা একাধিকবার বাড়ানো হলেও প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ হয়নি।

এলজিইডি সূত্র জানিয়েছে, ৩৭ কোটির প্রকল্প ২য় ধাপে ব্যয় বাড়িয়ে প্রায় ৪০ কোটি করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না করায় বাড়ানো হয়েছে সময়ও। তবে গাছ কেটে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারেননি মহেশখালী উপজেলা প্রকৌশলী বনি আমিন জনি। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় পুরোনো জেটির পাশেই নতুন জেটি নির্মাণের কাজ চলছে। কাজ শেষ প্রায় ৫৫ শতাংশ। কাজ শেষে নতুন জেটি চালু হলে জনদুর্ভোগ কমবে। 

তবে স্থানীয়রা বলছেন, প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় তারা প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। মহেশখালীর বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম বলেন, নতুন জেটি তৈরির নামে শুধু প্রতিশ্রুতি শুনছি, কিন্তু দুর্ভোগ কমেনি। বরং আগের জেটিটি নষ্ট হয়ে গেছে, আর নতুন জেটির কাজ এখনও শেষ হয়নি।

নতুন জেটি নির্মাণের বিলম্বের কারণে মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরাজীর্ণ কাঠের জেটি দিয়ে নামতে গিয়ে অনেকেই পা ফসকে পানিতে পড়ে যায়। বিশেষ করে প্রবল জোয়ার-ভাটার সময় এটি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছে, যাত্রীদের হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, স্পিডবোট চালকদের নৈরাজ্য এবং নিয়মিত দুর্ঘটনার কারণে তারা নৌপথে যাতায়াত করতে ভয় পান। স্থানীয় সাংবাদিক ফরিদুল আলম দেওয়ান বলেন, ‘সেতু নির্মাণের দাবি বারবার উঠলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন নতুন জেটির নামে পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে, কিন্তু তাতেও মানুষের দুর্ভোগ কমছে না।

পরিবেশবিদ ড. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘অপরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রমের কারণে মহেশখালীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে পরিবেশবান্ধব নকশায় পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রয়োজন।’

সরকারের পক্ষ থেকে এ নৌপথের উন্নয়নে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়নি। স্থায়ী জেটিঘাট নির্মাণ, নৌযানগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা