× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পৌরসভার জনবলে চলছে সিটি করপোরেশন

রেজাউল করিম, গাজীপুর

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৫ ১০:৩৫ এএম

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৫ ১০:৫৯ এএম

পৌরসভার জনবলে চলছে সিটি করপোরেশন

আয়তনে দেশের বৃহত্তম গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি) প্রতিষ্ঠার পর থেকে জনবল সংকটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, সচিব- এমন গুরুত্বপূর্ণ ৯টিসহ অসংখ্য পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এ কারণে অর্ধকোটির বেশি মানুষের সেবা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। ভোগান্তি আর অনিয়ম তাই সিটির বাসিন্দাদের নীরবে সইতে হচ্ছে। 

কর্তৃপক্ষ বলছে, শূন্যপদে জনবল পদায়নের জন্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। নিয়োগবিধি অনুমোদন না হওয়ায় নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে মাস্টাররোলে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের নিয়োগেই জোড়াতালি দিয়ে চলছে এই সিটি করপোরেশন। 

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি সাবেক গাজীপুর পৌরসভা ও টঙ্গী পৌরসভা এলাকাসহ ৩২৯ দশমিক ৯০ বর্গমিটার আয়তন এলাকা নিয়ে গঠিত হয় গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি)। আয়তনের দিক থেকে এটি বৃহত্তম। বর্তমানে নগরীতে বসবাস করে ৬০ লাখের বেশি মানুষ। প্রতিষ্ঠাকালে দুই পৌরসভার জনবল নিয়েই এর যাত্রা শুরু হয়। জনবল কাঠামো ও নিয়োগ বিধি না থাকায় পরে আর স্থায়ীভাবে জনবল নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে শুরু থেকেই মেয়র সংকট, জনবল সংকট নিয়েই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে জিসিসি। 

অপরদিকে করপোরেশন গঠনের ১০ বছর পর ২০২২ সালে জনবল কাঠানো অনুমোদন করা হয়। কিন্তু তারপরে গত ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও জনবল নিয়োগ বিধিমালা অনুমোদন করা হয়নি। ফলে নতুন করে কোনো জনবল নিয়োগ/পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলেও ১২ বছরের অধিক কাল ধরে পৌরসভার জনবল দিয়েই চলছে কাজ।

প্রায় ৬০ লাখ মানুষের সেবার জন্য নিয়োজিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু মেয়র বা যোগ্য নেতৃত্ব সংকট নয়, জনবল সংকটেও ধুঁকছে। এতে উন্নত ও কাঙ্ক্ষিত সেবাবঞ্চিত হচ্ছে নগরবাসী। একই সঙ্গে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, সঠিক মান নিয়ন্ত্রণ করতে না পারাসহ নানা কারণে নগরবাসীর ভোগান্তি বাড়ছে। শূন্যপদগুলোতে প্রেষণে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিলে, আশা করা যায়, নাগরিক সেবা বাড়বে।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, জিসিসির সব উন্নয়ন, সংস্কার, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ ইত্যাদি নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে প্রকৌশল বিভাগ। সেই প্রকৌশল বিভাগে দীর্ঘদনি ধরে প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নেই। জিসিসির ৮টি অঞ্চলের প্রকৌশল বিভাগে দুজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ৮ জন নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পদে কর্মরত অধিকাংশ প্রকৌশলীরা বর্তমানে চলতি দায়িত্ব/অতিরিক্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও জিসিসির সচিব, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, প্রোগ্রামার, ভান্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ ৮টি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে কোনো কর্মকর্তা না থাকায় কাজকর্মে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

ক্রমবিকাশমান শিল্পকারখানাসমৃদ্ধ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র না থাকায় কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে জনবল সংকট। এসব কারণে ১২ বছরে প্রতিষ্ঠানটি নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এ সিটি করপোরেশনকে জনবান্ধব ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে হলে দ্রুত শূন্যপদে দক্ষ জনবল নিয়োগ, পদোন্নতি ও নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

গাজীপুর নাগরিক ফোরামের সভাপতি জালাল উদ্দিন বলেন, পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশন শুধু নামেই হয়েছে। মহানগরীর কোথাও নাগরিক সুবিধার ছিটেফোঁটা চিহ্ন দেখা যায় না। সিটি করপোরেশন হওয়ার জন্য যেসব নাগরিক সুবিধা থাকার দরকার, তার কিছুই এখানে নেই। মেয়র না থাকা, দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় এখানে পৌরসভা আমলের চেয়ে সেবার মান এক কানাকড়িও বাড়েনি। বরং বেড়েছে জনদুর্ভোগ-হয়রানি।

তিনি আরও বলেন, গত এক যুগেও গাজীপুরে নাগরিক সেবা না বাড়ায় আমরা হতাশ হয়ে পড়েছি। গেল ৩টি নির্বাচনে আমরা অনেক আশা নিয়ে মেয়র নির্বাচিত করেছিলাম। কিন্তু একজনও তাদের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। উন্নত নাগরিক সেবা আমাদের দিবাস্বপ্ন। বারবার অভিভাবকহীন সিটি করপোরেশন স্থবির হয়ে পড়েছে। গতিশীলতা দেখছি না। অনিয়ম দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, নেতৃত্ব জনবল সংকট নগরীকে বাসের অযোগ্য করে তুলেছে। 

জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক এএনএম মুনীর হোসাইন মোল্লা বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠনের পর ১২ বছর হয়ে গেলেও বাড়েনি নাগরিক সুবিধা। সর্বত্র অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সড়ক-মহাসড়কের পাশে আবর্জনার ভাগাড়, ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, সড়ক-মহাসড়ক এমনকি গলিপথেও যানজট থাকে। অপ্রতুল ট্রাফিক ব্যবস্থা, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। সামনে বর্ষাকাল। অনেক রাস্তায় সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে। অনেক বাসাবাড়িতেও পানি চলে আসে। এসব নিয়ে কারও কোনো চিন্তা নেই।

তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশন কার্যত একটি স্থবির প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সেবার মান বাড়াতে শূন্যপদে পদায়ন, নতুন জনবল নিয়োগসহ যা প্রয়োজন সেসব ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। 

জিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ খান (যুগ্ম সচিব) গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দীর্ঘদিন শূন্য থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, সিটি করপোরেশন হলেও এখনও পৌরসভার জনবল দিয়েই কাজ চালাচ্ছি। আমাদের এখানে জনবল সংকট আছে। এ কারণে অনেক সময় নাগরিকদের সঠিক সময়ে সেবা দিতে পারছি না। শূন্যপদ পূরণ ও নতুন জনবল নিয়োগ হলে সংকট কাটবে, সেবার মানও বাড়বে।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জিসিসির প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিছু নাগরিকবান্ধব কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করেছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে এগুলো সফলতা পাচ্ছে না। তিনি বলেন, জিসিসিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিকে নাগরিকবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলে চেষ্টা করছি। গুরুত্বপূর্ণ শূন্যপদগুলো পূরণের জন্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। নতুন লোক নিয়োগ-পদোন্নতি প্রদানের জন্য নিয়োগ বিধিমালা প্রয়োজন। এটি এখনও অনুমোদন না হওয়ায় নিয়োগ-পদোন্নতি দেওয়া যাচ্ছে না। বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আশা করা যায়, খুব দ্রুতই এসবের সমাধান পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা