× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ব্রিটিশদের তৈরি দেড়শ বছরের ঈশ্বরদী জংশন

মাহাবুবুর রহমান মিঠুন, ঈশ্বরদী (পাবনা)

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৫ ০৯:৫৮ এএম

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৫ ১০:৫৮ এএম

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী পাবনার শতবর্ষী ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন। প্রবা ফটো

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী পাবনার শতবর্ষী ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন। প্রবা ফটো

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ, প্রাচীন ও শতবর্ষী স্টেশন ‘ঈশ্বরদী জংশন’। দেশে ৪১টি জংশন স্টেশন রয়েছে। তার মধ্যে ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনটি অন্যতম। উত্তর ও পশ্চিমবঙ্গের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে জংশনটি তৈরি করা হয়। এখন শতবর্ষী হিসেবে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনটি দাঁড়িয়ে আছে। প্রায় দেড়শ বছর আগে নির্মিত এ জংশন স্টেশনের লালরঙা প্রাচীরগুলোর প্রতিটি ইট ও লোহার গায়ে রয়েছে ব্রিটিশদের স্পর্শ। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে এই ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনটিই কেবল ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে আছে।

দীর্ঘ রেল ইয়ার্ড বেষ্টনীতে ঘেরা একাধিক লাইনের এই স্টেশনটি আধুনিকতার ছোঁয়াই দেশের উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র সংযোগকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঈশ্বরদী জংশন রেলওয়ে স্টেশনটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন। 

জানা গেছে, ১৮৭৮ সালে প্রথম বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতবর্ষের ট্রেন চলাচল শুরু হয়। সে সময় ভারতের কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি রেলপথটি দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। প্রথম ভাগটি ছিল পূর্ববঙ্গ রাজ্যের রেলপথ ধরে কলকাতা স্টেশন (বর্তমান শিয়ালদহ) দিয়ে পদ্মা নদীর দক্ষিণ তীরের দামুকদিয়া ঘাট পর্যন্ত ১৮৫ কিলোমিটারের পথযাত্রা। তারপর সেখান থেকে আবার ফেরিতে করে নদী পেরিয়ে দ্বিতীয় যাত্রা শুরু হতো। উত্তরবঙ্গ রেলপথের ৩৩৬ কিলোমিটার মিটার গেজ লাইনটি পদ্মার উত্তর তীরের সারাঘাটকে শিলিগুড়ির সঙ্গে সংযুক্ত করেছিল। ঠিক সেই সময়কালেই পাকশী পদ্মা নদীর সাঁড়াঘাটে ‘ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে’ নামে প্রথম এই ঈশ্বরদী রেলস্টেশনটি স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে কালের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন রেলস্টেশন স্থাপনের প্রয়োজন দেখা দেয়। ১৯১০ সালে পাকশীতে পদ্মানদীর ওপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১৯১৫ সালে এ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্থাপিত হয়। দুই কিলোমিটার দীর্ঘ ইয়ার্ড ও স্টেশনটিতে ১৭টি রেললাইন স্থাপন করা হয়। মূলত এ সময় থেকে দেশের উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের রেল যোগযোগ স্থাপিত হয়। সে সময় ঈশ্বরদীর ওপর দিয়ে অনেক যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করত। দীর্ঘ প্রায় দেড়শ বছরে সময়ের পরিক্রমাই এ জংশন স্টেশনটির অনেক কিছুরই পরিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানে এই স্টেশন দিয়ে ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন প্রকার ১৪টি যাত্রীবাহী ট্রেন ও ৮টি মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। এগুলোর মধ্যে ১২টি আন্তঃনগর, ৪টি মেইল ট্রেন ও ৪টি লোকাল। চারটি প্লাটফর্ম বিশিষ্ট রেলওয়ে জংশন স্টেশনটি পরিচালনার জন্য বর্তমানে ১৪টি বিভাগে প্রায় দেড় হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। ১৯১০ সাল থেকে রেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চলাচলের জন্য ঈশ্বরদী ও পাকশীর মধ্যে ‘পাইলট’ নামে একটি ট্রেন চালু করা হয়েছিল। ঈশ্বরদী স্টেশন এবং হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণকালে পাকশী পদ্মানদীর পাদদেশে গড়ে তোলা হয় পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে অফিস। এই অফিস থেকে সেই সময় সারা ভারতবর্ষের মধ্যে রেল চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হতো। ব্রিটিশদের হাতে তৈরি নানা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী ঈশ্বরদী রেলস্টেশন বর্তমানে দেশের বৃহত্তম একটি জংশন স্টেশন হিসেবে পরিগণিত। 

ঐতিহ্যবাহী এ জংশন স্টেশনে দায়িত্বরত অবস্থায় কথা হয় সিনিয়র টিটিই আব্দুল আলীম মিঠুর সঙ্গে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহত্তম রেলস্টেশন আমাদের ‘ঈশ্বরদী জংশন’। এই স্টেশনটি একটি ঐতিহ্যবাহী। বাংলাদেশের ট্রেন যোগাযোগব্যবস্থায় এই জংশনের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ঈশ্বরদীর সন্তান হিসেবে আমি গর্বিত নিজ শহরে এমন একটি ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ রেলস্টেশন আছে।

ছোটবেলায় ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনের নাম পাঠ্যবইয়ে পড়েছি বলে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন পৌর সচিব জহুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, চাকরির সুবাদে দেশের সর্ববৃহৎ একটি জংশন স্টেশন পেয়েছি। নানা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী এই ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনের কারণেই ঈশ্বরদীকে রেল নগরী বলা হয়। তাই এই রেল নগরীকে এগিয়ে নিতে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মাসুম পারভেজ কল্লোল বলেন, ব্রিটিশ আমলের এই জংশন স্টেশনটি ঈশ্বরদী জংশন নামে নামকরণ করা হয়। এই স্টেশনটির গুরুত্ব অনুযায়ী অবকাঠামো উন্নয়ন অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। এই পুরোনো স্টেশনটির অবকাঠামোগত আরও উন্নয়ন করা হোক।

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশলী (ডিএন-২) বীরবল মন্ডল বলেন, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত দেড়শ বছরের রেলস্টেশন ঈশ্বরদী জংশন। দেশের সর্ববৃহৎ এই স্টেশনটি ঈশ্বরদীবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। ‘ঈশ্বরদী জংশন’ একটি পুরোনো রেলস্টেশন। এ স্টেশনকে রেল বিভাগ খুব গুরুত্ব দিয়েই দেখছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা