রাঙামাটি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৫ ২০:৫৫ পিএম
চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, পাংখোয়াসহ অন্য জনগোষ্ঠীর শিল্পীদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন। প্রবা ফটো
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীদের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু-সাগ্রাই-বৈসুক-বিষু-বিহু সামনে রেখে রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে সাতদিনব্যাপী বিজু মেলা। পাহাড়ি বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পোশাক, খাবার ও অলংকার নিয়ে মোট ১৮০টি স্টলে সাজানো হয়েছে এবারের মেলা।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিকালে রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে এ মেলার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল(অব.) অনুপ কুমার চাকমা। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ আয়োজনে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মেলা উদ্বোধনের পর শুরু হয় চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা। এতে রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন- রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ ও পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন।
এ সময় অনুপ কুমার চাকমা বলেন, এ উৎসব পাহাড়ের জনগোষ্ঠীর প্রাণের উৎসব। এ উৎসবের মাধ্যমে পুরনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে আমাদের সকলের সুখ, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করি।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ বলেন, বিজু উৎসবের মাধ্যমে এদেশে বহু জাতি, বহু সংস্কৃতিতে আমরা দেশ ও সারা বিশ্বের কাছের তুলে ধরতে পারব। আশা করছি, সকলের সহযোগিতায় উৎসব মুখর পরিবেশে সকলে এ উৎসব পালন করতে পারব।
রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার বলেন, এ বিজু মেলার মাধ্যমে আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতিকে জাতির কাছে তুলে ধরব। আমাদের সংস্কৃতি যত উন্নত হবে, তত আমরা এগ্রিয়ে যাব।
আলোচনা সভা শেষে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, পাংখোয়াসহ অন্য জনগোষ্ঠীর শিল্পীদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করা হয়।
আগামী ১২-১৪ এপ্রিল শুরু হবে বিজুর মূল আনুষ্ঠানিকতা। এ তিনদিনব্যাপী শুরু হতে যাওয়া উৎসবকে ঘিরে তিন পার্বত্য জেলায় পাড়ায়-মহল্লায় উৎসবের আমেজ বইছে।
রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় ১৪টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব হচ্ছে বিজু-সাংগ্রাই-বৈসুক- বিষু-বিহু-সাংক্রান। এ উৎসবের প্রথম দিনকে বলা হয় ফুল বিজু। উৎসবের দ্বিতীয় দিনকে মূল বিজু এবং তৃতীয় দিনকে বলা হয় গজ্যাপজ্যা বিজু।