চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৫ ১৮:৫২ পিএম
প্রবা ফটো
চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রাইভেট কারকে ধাওয়া করে জোড়া খুনের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) চট্টগ্রাম নগরী ও ফটিকছড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন বর্তমানে কারাবন্দি পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের অনুসারী বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা মোটরসাইকেলে চড়ে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে কারটিকে ধাওয়া দিয়ে কিলিং মিশনে অংশ নিয়েছিল।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. বেলাল (২৭) ও মো. মানিক (২৪)। গ্রেপ্তার বেলালের বাড়ি বান্দরবান জেলায় হলেও তাকে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার খাজা রোড থেকে এবং মানিককে তার গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, জোড়া খুনের ঘটনার পর থেকে আমরা নানাভাবে খুনিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছিলাম। ঘটনাস্থলে কয়েকটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে বেলাল ও মানিককে চিহ্নিত করা হয়। তাদের দুজনকে মোটরসাইকেল থেকে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলিবর্ষণ করতে দেখা যায়। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয়েছি।
চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রাইভেটকারকে ধাওয়া করে গুলি করে দুইজনকে খুনের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। এতে কারাবন্দী শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নগরীর বাকলিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় ছোট সাজ্জাদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এর আগে অন্য এক মামলায় গত ১৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- সাজ্জাদের স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না (৩৭), মোবারক হোসেন ইমন (২২), রায়হান (৩৫), মোহাম্মদ হাছান (৩৬), খোরশেদ (৪৫) ও বোরহান (২৭)।
ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার বখতেয়ার উদ্দিন মানিকের মা ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীর পরিকল্পনা অনুসারে আসামিরা গুলি করে মানিকসহ দুজনকে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে ।
এর আগে গত ৩০ মার্চ গভীর রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকায় একাধিক মোটরসাইকেলে থাকা সন্ত্রাসীরা প্রাইভেটকারকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। পরে প্রাইভেটকারটি বাকলিয়া এক্সেস রোড দিয়ে প্রবেশ করে নগরীর চকবাজার থানার চন্দনপুরায় গিয়ে থামে। তখন বেপরোয়াভাবে গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা। এতে বখতেয়ার হোসেন মানিক (৩০) ও মো. আব্দুল্লাহ (৩৫) নামে দুজন নিহত হন এবং রবিন ও হৃদয় নামে আরও দুজন আহত হন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. রবিন বলেন, মানিক প্রাইভেটকারের চালক। আর কারের মালিক আবদুল্লাহ। কার চালক মানিকের পাশে ছিলেন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত সরোয়ার হোসেন বাবলা। পেছনের সিটে ছিলেন আবদুল্লাহ, রবিন, হৃদয় ও ইমন।
আহত রবিনের দাবি, প্রতিদ্বন্দ্বী সরোয়ার হোসেন বাবলা ছোট সাজ্জাদকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেন বলে তার সন্দেহ ছিল। এজন্য সরোয়ারকে টার্গেট করে ছোট সাজ্জাদের অনুসারী সন্ত্রাসীরা কারে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে।
জানা যায়, সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ ও সরোয়ার হোসেন বাবলার মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধে এর আগেও এরূপ হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল।
এই ঘটনায় গত মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নগরীর বাকলিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলায় কারাবন্দী শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীসহ সাতজনকে আসামি করা হয়।
মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- সাজ্জাদের স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না (৩৭), মোবারক হোসেন ইমন (২২), রায়হান (৩৫), মোহাম্মদ হাছান (৩৬), খোরশেদ (৪৫) ও বোরহান (২৭)। মামলায় ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীর পরিকল্পনা অনুসারে আসামিরা গুলি করে মানিকসহ দুইজনকে হত্যার অভিযোগ করা হয়।