শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৫ ১১:০২ এএম
আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৫ ১১:২৬ এএম
গাজীপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। প্রবা ফটো
ঈদুল ফিতরের পরদিন গাজীপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১৬ হাজার ২০০ দর্শনার্থীর প্রবেশের রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন টিকিট বিক্রি থেকে মোট ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা আয় হয়েছে। পার্কের বিট কর্মকর্তা হারুন-অর-রশীদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঈদের দিন বিকাল ৪টা পর্যন্ত ১৩ হাজার দর্শনার্থী পার্কে প্রবেশ করেন। তাদের কাছে মোট ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হয়।
দুপুরে সরেজমিনে পার্কের প্রধান ফটকে দেখা যায়, দর্শনার্থী দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিটের অপেক্ষায় আছেন। পার্কের বাইরের উন্মুক্ত মাঠে নানা ধরনের পণ্য বিক্রির জন্য দোকানিরা বসেছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থী শত শত ব্যক্তিগত ও ভাড়ায় চালিত গাড়ি পার্কিং করেছেন মাঠের বিভিন্ন স্থানে।
সাফারি পার্কে প্রবেশের পরই দর্শনার্থীর নজরে পড়ে কোর সাফারি পার্কের প্রবেশপথ। এখানে উন্মুক্ত পরিবেশে বাঘ, ভালুক, সিংহ, জেব্রা, জিরাফসহ বিভিন্ন প্রাণী রয়েছে। আটটি মিনিবাসের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের প্রাণীদের বেষ্টনীর ভেতর ঘুরিয়ে দেখানো হয়। এ ছাড়া সাফারি কিংডমে দর্শনার্থীরা ম্যাকাও, টিয়া, ঘুঘু ও বিভিন্ন বিদেশি পাখি দেখতে পারেন।
পার্কের ভেতরে রয়েছে কুমির, হাতি, জলহস্তী, উটপাখি, ইমু, বিভিন্ন ধরনের সাপ, ইগল, ভুবনচিল ও রঙিন মাছ। শিশুদের জন্য রয়েছে বিশেষ পার্ক ও ‘নাইন-ডি’ থিয়েটার, যেখানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে প্রাণ ও প্রকৃতি সম্পর্কে তথ্যচিত্র দেখানো হয়।
কালিয়াকৈরের সফিপুর থেকে আসা পোশাকশ্রমিক দম্পতি আবু সাঈদ ও কণা বলেন, ঈদের পরদিন এত ভিড় হবে বুঝতে পারিনি। টিকিট কাটতে এক ঘণ্টার বেশি লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে।
ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে আসা সরকারি চাকরিজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবারের আবদার ছিল সাফারি পার্কে আসার। এবারের ঈদের ছুটি বেশি হওয়ায় সে সুযোগ হয়েছে।
পাঁচ বান্ধবী একসঙ্গে পার্কে আসার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বিউটি আক্তার বলেন, ‘আমাদের উপজেলাতেই পার্ক থাকলেও একসঙ্গে আসা হয়নি। এবার একসঙ্গে এসে অনেক আনন্দ করেছি। পার্কের সুন্দর ব্যবস্থাপনার কারণে দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে প্রবেশ করতে পারছেন।’
পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে প্রতিদিনই দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়বে। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পার্ক খোলা থাকে।
পার্কে প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা, তবে ১২ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য প্রবেশমূল্য ২০ টাকা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।