× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রপ্তানি

রংপুরের আলু যাচ্ছে নেপাল-মালয়েশিয়া

সরোয়ার জাহান সোহাগ, ডিমলা (নীলফামারী)

প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৫ ১২:৪১ পিএম

নীলফামারীর পঞ্চগ্রাম এলাকায় রপ্তানির উদ্দেশ্যে ফসলের মাঠেই আলু বস্তাবন্দি করছেন কৃষকরা। প্রবা ফটো

নীলফামারীর পঞ্চগ্রাম এলাকায় রপ্তানির উদ্দেশ্যে ফসলের মাঠেই আলু বস্তাবন্দি করছেন কৃষকরা। প্রবা ফটো

রংপুর কৃষি অঞ্চলে চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আলুর জাত-মানের কারণেই রপ্তানিতে ভালো সাড়া ফেলেছে কৃষকের উৎপাদিত উন্নত জাতের এই আলু। নিয়মিত রপ্তানি করা হচ্ছে নেপাল ও মালয়েশিয়ায়। এ বিষয়ে আলুচাষি, ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে কৃষি বিভাগ। এতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে উত্তরের কৃষিতে। উত্তরের স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা দিয়ে ইতোমধ্যে এক হাজার ৭৬৪ টন আলু নেপালে রপ্তানি করা হয়। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় এ পর্যন্ত ৩৮৭ টন আলু রপ্তানি করা হয়েছে। 

রংপুর অঞ্চলে ৫ জেলায় হিমাগার রয়েছে মোট ৭১টি, যার ধারণক্ষমতা মাত্র ৭ লাখ ১২ হাজার ৫৭২ টন। সেখানে আলু উৎপাদন হয়েছে ২৯ লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন। রংপুর বিভাগের ৫ জেলায় এবার আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লাখ ১০২ হেক্টর জমিতে। সেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে এক লাখ ১৯ হাজার ৩৯ হেক্টর জমিতে। গড় হিসাবে প্রতি হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদন হয়েছে ২৫ টন। বেশকিছু রপ্তানিকারক কোম্পানি নেপালে আলু রপ্তানি করছে তার মধ্যে হুসেন এন্টারপ্রাইজ, সুফলা মাল্টি প্রডাক্টস লিমিটেড, লোয়েড বন্ড লজেস্টি, ক্রসেস অ্যাগ্রো ও থিংকস টু সাপ্লাই ও ফাস্ট ডেলিভারি। 

রংপুরে কৃষি অঞ্চলে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের আলুর মধ্যে রয়েছে সেভেন জাত, শানশাইন, স্ট্রিক ও লাল পাকরি আলুসহ অন্যান্য জাতের এসব জাতের আলুর মধ্যে চাহিদা বেশি লাল পাকরি জাতের আলুর, দামও তুলনামূলক একটু বেশি। উৎপাদিত এসব আলু নেপাল, সৌদি, দুবাই, হংকং, মালয়েশিয়া, নেপালসহ কয়েকটি দেশে পাঠানো হয়েছে। এবার প্রাথমিকভাবে মালয়েশিয়ায় শানশাইন জাতের আলু পাঠানো হয়েছে। পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবে ছোট ছোট বস্তায় ভরা হচ্ছে আলু। সেগুলো আবার ওজন দিয়ে প্যাকেজিং করে ট্রাকে তোলা হচ্ছে।

জলঢাকার আলুচাষি রহিম উদ্দিন বলেন, আলুর ন্যায্য দাম নিশ্চিত ও হিমাগারে আলু সংরক্ষণ খরচ কমানো, বেশি বেশি রপ্তানির উদ্যোগ এবং স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারের হস্তক্ষেপ খুব দরকার। প্রান্তিক কৃষকরা বলছে, আমরা ৮০ টাকা কেজি দরে বীজ কিনে আলু রোপণ করেছি। কিন্তু বাজারে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে। আলু রাখতে গিয়ে হিমাগারে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় আমাদের বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে৷ তবে রপ্তানি অব্যাহত থাকলে আলুর লোকসান কমবে বলে আমরা আশাবাদী। 

বাংলাবান্ধা উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের কোয়ারেনটিন ইন্সপেক্টর মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, নেপালে ভারতের চেয়েও বাংলাদেশের আলুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে কয়েক দফায় ১৯ জানুয়ারি থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত ১ হাজার ৭৬৪ টন আলু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নেপালে রপ্তানি করা হয়েছে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে নিয়মিত আলু রপ্তানি করা হচ্ছে, অফিসিয়াল ঝামেলা একেবারেই কম হওয়ায় রপ্তানিকারকরা আলু সরবরাহে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছে। আশা করছি কৃষকরা ভালো দাম পাবেন ও ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন। 

রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাসীন ট্রেড লিংকের মো. মমিনুর রহমান বলেন, আমরা থিংকস টু সাপ্লাই নামের রপ্তানিকারক গ্রুপের মাধ্যমে চলতি বছর আলু নেপালে পাঠাচ্ছি। ১৯ জানুয়ারি চলতি মৌসুমে প্রথম ট্রিপে ৪২ টন আলু মাধ্যমে রপ্তানি শুরু করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য রপ্তানিসহ মোট এ পর্যন্ত ১ হাজার ৭৬৪ টন আলু রপ্তানি করা হয়।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আফজাল হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলে আলুর রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন হয়েছে। আলুর উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। তবে কৃষকরা বাজারে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। তবে কিছু কিছু এলাকা থেকে আলু কয়েকটি দেশে রপ্তানি শুরু হওয়ায় এবং আলুর ভালো দাম প্রাপ্তির খবরটি আমাদের জন্য সুখকর। আমরা আশা করছি কৃষকরা ন্যায্য দাম পাবেন। রপ্তানি বৃদ্ধিসহ কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আমরা চেষ্টা করছি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা