মাদারীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:৩৪ পিএম
আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:৫৯ পিএম
আগুনে পোড়া ঘরের সামনে এলাকাবাসী। ছবি : প্রবা
দুই শিশুসন্তানকে ঘরে রেখে দরজায় ছিটকিনি লাগিয়ে মা গিয়েছিলেন কাজে। আর বাবা রয়েছেন জেলহাজতে। এমন অবস্থায় ঘরে আগুন লাগে। এলাকাবাসী গিয়ে আগুন নেভান। তারা ঘরের দরজা খুলে দুই শিশুর দগ্ধ লাশ উদ্ধার করেন। সোমবার (৫ ডিসেম্বর) বেলা ১২টার দিকে মাদারীপুর সদর উপজেলার উত্তর ঝিকরহাটি গ্রামের মওলা মাতুব্বরের বাড়িতে এই আগুনের শিকার হয় তারা। শিশুদের বয়স এক থেকে তিন বছরের মধ্যে। সদর উপজেলার শ্রীনদী গ্রামের মানিক বৈদ্যের ছেলে তারা।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, ঝিকরহাটি গ্রামের ওই বাড়ির মালিক মওলা মাতুব্বর ঢাকায় থাকেন। তার একটি ঘরে মানিক তার পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন মানিক বৈদ্য নিজে, তার স্ত্রী, শাশুড়ি ও দুই শিশুছেলে। কিছুদিন আগে মানিক একটি মামলায় আটক হয়ে কারাগারে আছেন। সোমবার সকালে শিশুদের মা বাড়ি থেকে বের হয়ে কাজে যান। তখন তিনি ঘরে তার দুই শিশুসন্তানকে রেখে বাইরে থেকে ছিটকিনি দিয়ে রাখেন। এর কিছুক্ষণ পর ঘরে আগুন লাগে বলে এলাকাবাসীর ভাষ্য।
এলাকাবাসী বলছেন, তারা হঠাৎ করেই ঘরে আগুন-ধোঁয়া দেখতে পান। নিজেরাই পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর দগ্ধ দুই শিশুকে উদ্ধার করেন। একজন ঘটনাস্থলেই পুড় অঙ্গার হয়ে যায়। আরেকজনকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মাদারীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎক জাহিন আরেফিন বলেন, ‘হাসপাতালে আগুনে পোড়া এক শিশুকে আনা হয়। ওই শিশুর মুখ, গলা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।’
শিশুদের মৃত্যুর পর প্রশ্ন উঠেছে তাদের মা ও নানি ফিরে না আসায়। মা সকালে ছিটকানি লাগিয়ে বাইরে গিয়েছেন বলে জানালেও নানির বিষয়ে কিছু বলতে পারেনি এলাকাবাসী। নানি সকালে ওই বাড়িতে ছিলেন কিনা তাও পুলিশ বা এলাকাবাসী বলতে পারেনি। মা বা নানির পৈতৃক ঠিকানা বলতে পারেনি পুলিশ। শিশুদের মা-বাবার পেশাগত পরিচয়ও পুলিশ বা এলাকাবাসী বলতে পারেনি। মা ও নাকিকে পুলিশ খুঁজছে বলে জানিয়েছেন ওসি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করে হৃদয় খান নামে একজন এলাকাবাসী বলছেন, ‘ঘরের ভেতর আগুন আর ধোঁয়া দেখে আমরা পুকুর আর কল থেকে পানি তুলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। পরে ঘরের ভিতরে গিয়ে দুই শিশুকে পড়ে থাকতে দেখি আমরা। এক বছর বয়সী শিশুটা ওখানেই মারা গেছে। তবে আড়াই বছরের শিশুটা তখনো বেঁচে ছিল। তাকে হাসপাতালে আনার পরে মারা যায়। অনেক চেষ্টা করেও শিশুটার বাঁচাতে পারলাম না।’