প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৫ ২২:০০ পিএম
আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৫ ২২:২০ পিএম
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সারাদেশে পালিত হয়েছে ৫৫তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বুধবার (২৬ মার্চ) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির শুভ সূচনা হয়।
পরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কুচকাওয়াজ, শিশু কিশোরদের শরীরচর্চা প্রদর্শন, সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবি-বিএসএফে মিষ্টি বিনিময়, কোস্ট গার্ড-নৌবাহিনীর জাহাজ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্তসহ নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়। সরাদেশে থেকে আমাদের অফিস, প্রতিবেদক ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবরÑ
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে ফুলেল শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে কাট্টলী ডিসি পার্কের দক্ষিণ পাশে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথম প্রহরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
রাজশাহী: জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অপর্ণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে জেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের সমাবেশ ও আকর্ষণীয় কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে জাতির সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি কামনা করে সব মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
রংপুর: রংপুর নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতি সংগঠনের নেতারা। পরে রংপুর স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ হয়। এরপর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বরিশাল : দিবসের প্রথম প্রহরে বরিশাল নগরের জেলা প্রশাসক কার্যালয় সংলগ্ন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। পরে নগরের বেলস পার্কে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ শেষে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। কীর্তনখোলা নদীতে নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা ‘পদ্মা’ দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়।
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর কলাপাড়ার পায়রা বন্দরের সার্ভিস জেটিতে কোস্ট গার্ডের বিসিজিএস অপরাজেয় বাংলা নামের জাহাজটি জনসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ জাহজটি দেখতে আসেন। পরে জাহাজটি সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন কোস্ট গার্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। জাহাজের গভীর সমুদ্রে গমন ও উপকূলীয় অঞ্চলে টহল প্রদান, উদ্ধার ও অনুসন্ধান কর্মকাণ্ড, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধ, জলদস্যুতা দমন, মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং যুদ্ধ কৌশল সম্পর্কে জানতে পেরে উচ্ছ্বসিত হন দর্শনার্থীরা।
ঝালকাঠি : জেলা প্রশাসন আশরাফুর রহমান, পুলিশ সুপার উজ্জল কুমার রায়সহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা বিএনপি, বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।
পঞ্চগড় : দিবসের শুরুতে জেলা কালেক্টরেট চত্বরে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে প্রথমে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক সাবেত আলী ও পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি। পরে সিভিল সার্জন, জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সেচ্ছাসেবী সংগঠন, জেলা শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষজন শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।
খাগড়াছড়ি : সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পরপরেই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মুক্তিযুদ্ধ সংসদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার, পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েলসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
উজিরপুর (বরিশাল) : বরিশালের উজিরপুরের শিকারপুর মারকাযুল কারিম সামেলা মাজেদ কওমি মাদ্রাসার উদ্যোগে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আউয়াল হাওলাদার ও আব্দুল মান্নান হাওলাদার। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে শরীর চর্চা প্রদর্শন করেন।
হিলি (দিনাজপুর): সকালে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবির হিলি আইসিপি ক্যাম্পের সুবেদার অসীম কুমার মারাক ভারতের বিএসএফ প্রতিরাম ৭৯ ব্যাটালিয়নের এসি রহিত শর্মা ও ১৫১ ব্যাটালিয়নের ইনস্পেকটর (কম্পারি কমান্ডার) অতুল প্রসাদের হাতে ৪ প্যাকেট মিষ্টি দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় বিএসএফের পক্ষ থেকেও বিজিবিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় : আনন্দ শোভাযাত্রা, বেলুন উড়ানো ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের মাধ্যমে যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। সকালে প্রশাসন ভবন চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় : সকালে প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেট থেকে স্বাধীনতা শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী। পরে মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন তিনি। এরপর পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ, আবাসিক হল, ইনস্টিটিউটসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।