ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৫ ১৭:১১ পিএম
স্বামী ইমরান মিয়া (বাঁয়ে) ও শ্বশুর আবুল কাসেম। ছবি : সংগৃহীত
ভৈরবে গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এর আগে বুধবার (২৬ মার্চ) সকালে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযুক্ত স্বামী ইমরান মিয়া ও শ্বশুর আবুল কাসেম। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ তাল শহর এলাকার বাসিন্দা।
নিহত গৃহবধূ জেলার তাড়াইল থানার ভাওয়াল পরুরা এলাকার মাহবুব আলির মেয়ে আঁখি বেগম।
গৃহবধূ নিহতের ঘটনায় তার মা মরিয়ম বেগম বাদী হয়ে ভৈরব থানায় স্বামী ও শ্বশুরকে আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করেছে। ওই মামলায় আরও ৫/৬ জনকে অজ্ঞাত পরিচয়ে আসামি করা হয়েছে।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে পৌর শহরের পঞ্চবটি পুকুরপাড় মোল্লাবাড়িতে আত্মহত্যার ঘটনায় গৃহবধূ আঁখি বেগমের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের পরিবার জানায়, গৃহবধূ আঁখি বেগমের সঙ্গে ৪ বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে ইমরানের। ৩ বছর আগে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন। মঙ্গলবার সকালে ঘুম থেকে উঠে স্ত্রীকে ঘরে না পেয়ে ইমরান মিয়া ঘোড়াকান্দায় তার খালা শাশুড়ির বাড়িতে যায়। সেখানে গিয়ে সঙ্গে ঝগড়া করে মারধর করতে করতে স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়িতে এসে গৃহবধূ আঁখি বেগমের ঘরের মধ্যে রহস্যজনক মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে নিহত গৃহবধূর মা মরিয়ম বেগম বলেন, আমার মেয়েকে ইমরান হত্যা করেছে। আমার সামনে থেকে আঁখিকে মারধর করে টেনে-হিঁচড়ে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর আমি খবর পাই, আমার মেয়ে মারা গেছে। আমি ইমরানের কঠিন বিচার চাই।
এ বিষয়ে ইমরান মিয়ার দাবি, তার স্ত্রী ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে।
ওসি খন্দকার ফুয়াদ রুহানী বলেন, খবর পেয়ে গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যু নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হওয়ায় ও নিহতের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে গৃহবধূর স্বামী ইমরান মিয়া ও শ্বশুর আবুল কাসেমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বোঝা যাবে, গৃহবধূ আঁখি বেগমকে হত্যা করা হয়েছে না কি তিনি আত্মহত্যা করেছেন।