রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৫ ২০:২১ পিএম
আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৫ ২০:৪৪ পিএম
প্রতীকী
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে হাত-পা বেঁধে এক সন্তানের মাকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (২৪ মার্চ) সেহরির সময়ে উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ টুমচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত ধর্ষকের নাম জামাল আহমেদ, তিনি ভুক্তভোগীর ননদের স্বামী। জামাল এর আগেও তাকে ধর্ষণ করেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তখন দলীয় প্রভাবে বিচার পাননি ভুক্তভোগী ওই নারী। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তিনি।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই নারী সোমবার সেহরির সময়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বসতঘরের অদূরে শৌচাগারে যান। এ সময় কিছু বুঝে ওঠার আগে দুই ব্যক্তি তাকে ঝাপটে ধরে নির্জন একটি জায়গায় নিয়ে যায়। পরে হাত-পা ও মুখ বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তাকে। এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ধর্ষকরা তাকে রেখে পালিয়ে যায়। জ্ঞান ফেরার পর চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুঁটে এসে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক নারী জানান, ভোর রাতে সেহরির খাওয়ার কিছু সময় পর ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে এগিয়ে যান তারা। এ সময় বিবস্ত্র অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। ভুক্তভোগী ওই জানান, প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে জামালসহ চার-পাঁচজন মিলে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেছে।
ভুক্তভোগী ওই নারী আরও জানান, তার বাড়ি সিলেট জেলায়। ওই এলাকার স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে দুবছর আগে তার বিয়ে হয়। এর মধ্যে এক সন্তান নিয়ে সুখেই কাটছে তাদের সংসার। বিয়ের কিছুদিন পর পার্শ্ববর্তী গ্রামে ননদের বাড়িতে বেড়াতে যান তিনি। সেখানে ননদের জামাই জামাল আহমেদ অনৈক কাজে প্রস্তাব দেন। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে বিবাদ চলে আসার কয়েক মাস পর জামাল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে বিচার দাবি করলে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও নিজে আওয়ামী লীগের নেতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যান তিনি। এ ঘটনায় আগের ক্ষোভ থেকে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে জামাল গত রাত সেহরির সময় গণধর্ষণ করেছে বলে জানান তিনি।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন ঘটনার সতত্যা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি গণধর্ষণ নয়। ভুক্তভোগীকে তার ননদের জামাই জামাল জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। এ ঘটনায় আশরাফ ও নুর ইসলাম নামের দুজন ধর্ষণে তাকে সহযোগিতা করেছে। ভুক্তভোগী নারী জামালকে প্রধান করে অজ্ঞাত আরও তিনজনকে অভিযুক্ত করে এজাহার দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।