ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৫ ১৯:৫৬ পিএম
প্রবা ফটো
পাবনার ঈশ্বরদীতে ইফতার মাহফিলে বিরিয়ানি খেয়ে সাংবাদিকসহ অন্তত অর্ধশাতাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে তারা ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
রবিবার (২৩ মার্চ) রেলওয়ে মালগুদামে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এস এম রাজার উদ্যোগে ও জংশন ডিডিপির ব্যানারে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে এ ঘটনা ঘটে।
সোমবার (২৪ মার্চ) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েও ৭ থেকে ৮ জনকে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
এদিকে ঘটনাটির পর থেকেই পৌর শহরের স্টেশন রোডের ঢাকা বিরিয়ানি হাউজ নামের এ রেস্তোরাটি বন্ধ রয়েছে।
জানা গেছে, রবিবার ঈশ্বরদীর সাপ্তাহিক জংশন নামে একটি স্থানীয় পত্রিকা ও জংশন ডিডিপি নামে আরেকটি অনলাইন পত্রিকার পক্ষ থেকে স্টেশন রোডে অবস্থিত পত্রিকাটির কার্যালয়ে একটি ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন পত্রিকাটির সম্পাদক ও ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এস এম রাজা। এতে প্রায় ১০০ জনের বেশি রোজাদারদের ইফতার করাতে পৌর শহরের ঢাকা বিরিয়ানি হাউজ থেকে অর্ডার করা মুরগীর রোস্ট ও বিরিয়ানি খেতে দেওয়া হয়। খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই সবার পেটে ব্যাথা, বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরে অনেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে মধ্যরাত থেকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা সাংবাদিক উজ্জ্বল হোসেন প্রধান বলেন, ইফতারে বিরিয়ানি খাওয়ার পর থেকে পেটে ব্যাথা অনুভব করি। তার কিছুক্ষণ পরই বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। শারীরিকভাবে অনেক বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে ভর্তি হই। রেস্তোরার খাবারটা সম্ভবত পঁচা-বাসি খাবার ছিল, যার ফলে সবাই অসুস্থ হয়ে গেছে।
অসুস্থ হয়ে পড়া ইয়াসিন আরাফাত নামে আরেকজন বলেন, খাবারের মানগত সমস্যার কারনে এ ঘটনা ঘটেছে। ইফতার মাহফিলে এমন পঁচা বাসি খাবার দেওয়া ওই প্রতিষ্ঠাটি জনস্বার্থে বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
ইফতার মাহফিলের আয়োজক ও ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এস এম রাজা বলেন, কি কারনে এমন ঘটনা ঘটেছে বুঝতে পারছি না। তবে ইফতারের মতো অনুষ্ঠানে যদি ঢাকা বিরিয়ানি হাউজ নামে ওই রেস্তোরা ইচ্ছে করে জেনেশুনে এমন মানহীন খাবার দিয়ে থাকে তবে জনস্বার্থে ওই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে। সুস্থ হয়ে এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে ঢাকা বিরিয়ানি হাউজ নামে রেস্তোরাটি বন্ধ থাকার কারনে এ ব্যাপারে জানতে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রোপাইটর মো. আজিজুলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম শহিদ বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। এ ব্যাপারে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। যদি লিখিত অভিযোগ পাই তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।