হাবিব ওসমান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৫ ১৫:৫১ পিএম
কালীগঞ্জে চলতি মৌসুমে এবার চাষিরা ভুট্টার বাম্পার ফলনের আশা করছেন।
কালীগঞ্জে চলতি মৌসুমে এবার চাষিরা ভুট্টার বাম্পার ফলনের আশা করছেন। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ও অনুকূল আবহাওয়া থাকায় ভুট্টা চাষে চাষিদের আগ্রহ বেড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে সবুজের সমারোহ। ভুট্টার এই ফলনে কৃষকের চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক। এখন কৃষকরা মাঠ পরিচর্যায় ব্যস্ত।
কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এবার ১১টি ইউনিয়নে ২ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর উপজেলায় ভুট্টা চাষে বেশি আগ্রহী হয়েছেন চাষিরা। ভুট্টা চাষে খরচ কম কিন্তু ফলন বেশি। দাম ভালো পাওয়ার কারণে ভুট্টা চাষে আগ্রহে ভাটা নেই। ভালো ফলনের আশায় চাষিরা ভুট্টা ক্ষেতে রাতদিন শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের পাশাপাশি তদারকিতে আছেন কৃষি কর্মকর্তারা। উপজেলার রাখালগাছি, বারবাজার, কাষ্টভাঙ্গা, সুন্দরপুর-দূর্গাপুর, নিয়ামতপুর, জামাল, কোলা, শিমলা-রোকনপুর, মালিয়াট ও ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নসহ প্রায় সবকটি ইউনিয়নেই ভুট্টার চাষ করেছেন চাষিরা। তবে ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ভুট্টা চাষ হয়েছে বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।
উপজেলার জামাল ইউনিয়নের তৈলকুপী গ্রামের চাষি লিয়াকত আলী মোল্লা বলেন, ‘এলাকার যেসব জমিতে আগে বোরো চাষ করা হতো, সেসব জমির অনেকগুলোয় এবার আমরা ভুট্টা চাষ করেছি। বোরো চাষের জন্য পানির অভাব পড়ে। তা ছাড়া ধানের উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। অথচ যখন ধান কাটামাড়াই শুরু হয়, তখন ধানের বাজারে দরপতন হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচই ওঠে না। কিন্তু ভুট্টা উৎপাদনে খরচ কম। এজন্য ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়েছি।’
উপজেলার রাখালগাছি ইউনিয়নের বকেরগাছি গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এলাকা ধান, আলু, বেগুনসহ অন্যান্য সবজি চাষের জন্য দীর্ঘদিন থেকে বিখ্যাত। সিংহভাগ সবজি আমাদের এলাকায় উৎপন্ন হয়। এ সিজনে সবজির দাম তেমন একটা পাননি চাষিরা। দাম পেয়েছে মজুদদাররা। তাই এবার বেশি করে ভুট্টা চাষ করেছি। আশা করি ফলনও বাম্পার হবে। তবে ন্যায্য দাম পেলে কষ্ট সার্থক হবে।’
উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘গতবারের তুলনায় এবার এলাকায় ভুট্টার আবাদ অনেক বেশি হয়েছে। আশা করছি, ভুট্টার বাম্পার ফলন হবে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমরা নিয়মিত কৃষকদের পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে আসছি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি বলেন, ‘কৃষকদের চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করতেই প্রণোদনা। এ বছরে উপজেলায় ২ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩১ হাজার ১ শত ২৫ টন। যা গতবারের তুলনায় বেশি। উচ্চ ফলনশীল বীজ ব্যবহারে চাষিদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে আসছে কৃষি অফিস।
কৃষি অফিসের সঠিক পরামর্শ ও সঠিক কৃষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা ভালো ফসল উৎপাদনে সক্ষম। কিন্তু ফসল উৎপাদনের পর যখন ভালো দাম না পায় তখন কৃষকের মধ্যে দেখা দেয় হতাশা। ভালো ফসলের ভালো মূল্য পেয়ে চাষিরা যাতে কৃষিকাজে বেশি করে মনোনিবেশ করতে পারে সেজন্যে কৃষকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাতে মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বাজার সিন্ডিকেট দূর করা যায়Ñ এমনটাই প্রত্যাশা চাষিদের।