রেজাউল করিম, গাজীপুর
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৫ ১০:৪৪ এএম
ঈদযাত্রা শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই মহাসড়কে যানজট ও দুর্ভোগ যেন এক চিরাচরিত চিত্র। প্রবা ফটো
ঈদযাত্রা শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই মহাসড়কে যানজট ও দুর্ভোগ যেন এক চিরাচরিত চিত্র। প্রতিবারের মতো এবারও গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় যানজটের মাত্রা চরমে পৌঁছাতে পারে।
ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রুট দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়কপথ। এই পথে প্রতিবছর ঈদে যাত্রীর চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন উত্তরবঙ্গের দিকে চলাচল করে। যানজটের কারণে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের যেকোনো জেলায় পৌঁছাতে কখনও কখনও অতিরিক্ত ১০-১২ ঘণ্টা সময় লাগে। এতে ঈদের আনন্দযাত্রায় ছেদ পড়ে।
কয়েক বছর আগে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকার যানজট কমাতে একটি উড়ালসড়ক নির্মাণ করা হয়। উড়ালসড়ক চালু হওয়ার পর যানজট কিছুটা কমলেও নিচের সড়কের একটি লেন সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় নতুন সমস্যা দেখা দেয়। নবীনগর থেকে চন্দ্রা হয়ে উত্তরবঙ্গের দিকে যাতায়াতকারী যানবাহনগুলো এই সংকুচিত স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে।
গাজীপুরের বাইপাইল মোড় থেকে চন্দ্রা মোড় পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়কপথে যানজটের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। এই পথ পার হতে গাড়িগুলোর দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। এ ছাড়া গোড়াই মিলগেট এলাকায়ও ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, রাস্তার দুই পাশে অবৈধ দোকানপাট, কাঁচাবাজার, ইজিবাইকের আধিক্য এবং অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে সারা বছরই যানজটের সমস্যা থাকে। ঈদের সময় এই সমস্যা আরও তীব্র হয়।
এবারও ঈদযাত্রায় যানজটের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তবে গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশ, জেলা ও মহানগর পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যানজট নিরসনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশ সুপার আ ক ম আখতারুজ্জামান বসুনিয়া জানান, গাজীপুর ও আশপাশের মহাসড়কগুলোতে এবার ঈদে ৯ শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। তারা জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাইপাইল মোড় এলাকায় আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ চলছে। রাস্তার মাঝখানে পিলার নির্মাণের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এ কারণে এই এলাকায় দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। এই জট চন্দ্রা পার হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটেও যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। এই রুটে উত্তরা, গাজীপুর চৌরাস্তা, আবদুল্লাহপুর এবং বিমানবন্দর বিআরটি করিডোর এলাকায় গাড়ির জট তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া ভবানীপুর বাজার, হোতাপাড়া, বাঘের বাজার, মাস্টারবাড়ী বাজার, সিড-স্টোর বাজার এবং ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিকালের পর বাজার বসার কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়।
ঈদযাত্রা সহজ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ককে চারটি সেক্টরে ভাগ করে সাড়ে সাতশ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। এ ছাড়া বিকল গাড়ি দ্রুত সরানোর জন্য রেকার ভ্যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মহাসড়কে ছিনতাই ও ডাকাতি রোধে অতিরিক্ত চেকপোস্ট স্থাপন করা হবে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন, রমজানের শুরুতেই তারা ঈদযাত্রার প্রস্তুতি নিয়েছেন। মহাসড়কের সার্ভিস লেন দখলমুক্ত করা হয়েছে এবং অবৈধ বাসস্ট্যান্ড সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া যানজট নিরসনে সাড়ে তিনশ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) এসএম আশরাফুল আলম জানান, টঙ্গীর চেরাগ আলী, কলেজ গেট, ভোগড়া এবং চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। এ সমস্যা নিরসনে তারা প্রস্তুত। ঈদযাত্রা শুরুর পর বিআরটি লেন ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের দিকে একমুখী যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।
পরিবহন চালকরা বলছেন, ঈদের সময় তড়িঘড়ি করে গাড়ি চালানোর কারণে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে যানজটের আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। তারা প্রশাসনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও যানজট পুরোপুরি এড়ানো কঠিন বলেই মনে করছেন।