× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মহেশখালীতে শতবর্ষী দীঘির পাড়ে আশ্রয়ণের ঘর

ফুয়াদ মোহাম্মদ সবুজ, মহেশখালী (কক্সবাজার)

প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০২৫ ১৬:১৭ পিএম

নোনাছড়ির কোস্টাল কমিউনিটি সেন্টারের দীঘির পাড়ে স্থাপন করা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর। প্রবা ফটো

নোনাছড়ির কোস্টাল কমিউনিটি সেন্টারের দীঘির পাড়ে স্থাপন করা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর। প্রবা ফটো

কক্সবাজারের মহেশখালীর কালারমারছড়া নোনাছড়ি কোস্টাল কমিউনিটি সেন্টারের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী দীঘির পাড়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এতে দীঘির পরিবেশগত ভারসাম্য যেমন নষ্ট হয়েছে, তেমনি মিঠাপানিও দূষণের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকারের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কালারমারছড়া সোনাপাড়ায় সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের ফলে বহু স্থানীয় পরিবার উচ্ছেদের শিকার হয়। তাদের বসতভিটা হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। পরে এই উচ্ছেদকৃত বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের নামে ইউনিয়নের নোনাছড়ি কোস্টাল কমিউনিটি সেন্টারের শতবর্ষী দীঘির পাড়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করে আওয়ামী লীগ সরকার। এতে দীঘির প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীকি মারমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাছবীর হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, নোনাছড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাশেদ কামালসহ বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ মদদ দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা আশ্রয়ণ প্রকল্পের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ লোপাট করতেই তড়িঘড়ি করে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। 

পরিবেশের তোয়াক্কা না করে দীঘির পাড়ে কেটে একাংশ ভরাট করে ঘর নির্মাণ করায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা এ নিয়ে প্রতিবাদও করেছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১৬ মার্চ নোনাছড়ি বাজারে স্থানীয়দের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। শত শত মানুষ এতে অংশ নিলেও প্রশাসন তাদের দাবি আমলে নেয়নি। বরং প্রতিবাদকারীদের উল্টো ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ।

মুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুস সত্তার বলেন, ‘এই দীঘি ও মাঠের একটা ঐতিহ্য আছে। প্রশাসন ও প্রভাবশালীরা এটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। যেখানে সরকারই পরিবেশ রক্ষার কথা বলে, সেখানে তারাই দীঘির পাড় কেটে ঘর বানিয়েছে। এটা অন্যায়, এটা অবৈধ দখল। আমরা প্রতিবাদ করেছি, কিন্তু কে শোনে আমাদের কথা।’

স্থানীয় জসিম উদ্দিন বলেন, এখানে একটা টেকনিক্যাল স্কুল হওয়ার কথা ছিল, যাতে ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করতে পারে। অথচ সেটার জায়গা দখল হয়ে গেল। এর পেছনে কারা জড়িত, তা সবাই জানে, কিন্তু কেউ কিছু বলছে না। কারণ প্রশাসনই জড়িত। যারা এর প্রতিবাদ করেছে, তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থী গোলাম নুসরাত বলেন, ‘পতিত সরকার যদি সত্যিই গরিবদের পুনর্বাসন করতে চাইত, তাহলে পরিবেশ নষ্ট না করে অন্য জায়গা নির্ধারণ করে প্রকল্প করত। কিন্তু এখানে মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নেওয়া।

পরিবেশবিদদের মতে, দীঘির পাড় কেটে ঘর নির্মাণ পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে। এতে মাটির বাঁধ নরম হয়ে জলাধারের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে পুরো এলাকার পানি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব ফেলবে। এ ছাড়া আশ্রয়ণের বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত ময়লা-আবর্জনা ফেলছে, এটাও একটা উদ্বেগের কারণ।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. মাহবুবুল হক বলেন, ‘শতবর্ষী দীঘির পাড় কেটে ফেলা মানে প্রাকৃতিক গঠন নষ্ট করে দেওয়া। এতে মাটির স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়, পানির গুণগত মানও নষ্ট হতে পারে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এটি মিঠাপানির উৎস হিসেবে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। এই কাজ সম্পূর্ণ পরিবেশ বিধ্বংসী।

এদিকে আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পর থেকেই সেখানে অপরাধ বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয়রা জানায়, আশ্রয়ণের জন্য করা ঘরগুলোতে অনেকে রাতে দলবেঁধে সন্দেহজনক কার্যকলাপে জড়িত থাকেন। গত ১৪ মার্চ অভিযান চালিয়ে সেখানের একটি ঘর থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে কোস্ট গার্ড। তবে অভিযানের সময় সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এতে আশ্রয়ণ প্রকল্পে অপরাধীদের সক্রিয় থাকার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সিনিয়র সাংবাদিক মুহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা বানানোর জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পকে কাজে লাগানোর প্রবণতা নতুন কিছু নয়। সঠিক তদারকি না থাকলে এ ধরনের প্রকল্প অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। প্রশাসন যদি শুরু থেকেই নজরদারি করত, তাহলে এই অবস্থা হতো না।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হেদায়েত উল্ল্যাহ বলেন, দীঘির পাড়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কারণে পরিবেশের ক্ষতি হয়েছে প্রথম শুনলাম। জলাধার ভরাটের কারণে কারণে যেন দীঘির মিঠাপানি দূষিত না হয় সেদিকে নজর রাখা হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা