× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পাহাড়ি নারীদের হাতে বোনা উটের বেল্ট যাচ্ছে দুবাইয়ে

রাঙামাটি সংবাদদাতা

প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:৩৭ পিএম

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:৫৭ পিএম

রাঙামাটির জুনুমাছড়া গ্রামে উটের বেল্ট তৈরি করছেন নারীরা। ছবি : প্রবা

রাঙামাটির জুনুমাছড়া গ্রামে উটের বেল্ট তৈরি করছেন নারীরা। ছবি : প্রবা

বাংলাদেশের পাহাড়ের নারীদের হাতে বোনা উটের গায়ে ব্যবহৃত বিশেষ বেল্ট যাচ্ছে দুবাইয়ে রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক পাহাড়ি নারী দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে এই কাপড় সরবরাহ করে যাচ্ছেন তারা হাতে বোনা এসব কাপড় স্থানীয় এক মহাজনের মাধ্যমে দুবাইয়ে বিক্রি করেন

স্থানীয়রা জানান, রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার নম্বর ঘাগড়া ইউনিয়নের জুনুমাছড়া গ্রামটির অধিকাংশ বাসিন্দা কৃষিকাজের পাশাপাশি হস্তশিল্পের সঙ্গে জড়িত ওই গ্রামের বাসিন্দা মিকা দেওয়ান ২০০৬ সালে দুবাইয়ের এক প্রবাসীর অনুরোধে উটের গায়ে ব্যবহৃত বিশেষ বেল্ট তৈরির কাজ শুরু করেন এর চাহিদা থাকায় তার দেখাদেখি একই কাজ শুরু করেন আরও অর্ধশতাধিক পাহাড়ি নারী তারা স্থানীয় এক মহাজনের মাধ্যমে এসব কাপড়ের বেল্ট সংগ্রহ করে দুবাইপ্রবাসীর কাছে পাঠান


রাঙামাটির জুনুমাছড়া গ্রামে উটের বেল্ট তৈরি করছেন নারীরা। ছবি : প্রবা 

তারা জানান, পাহাড়ি নারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করলেও সময়ের ব্যবধানে মজুরি না বাড়ায় পরিশ্রমের মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এসব কাপড় বা বেল্ট তৈরির কাজ সময়সাপেক্ষ কষ্টের এক সেট বেল্টের মধ্যে ছোট-বড় সাইজের ১৫টি বেল্ট তৈরি করা হয় এক মাসে একজন সবমিলিয়ে তিন সেট বেল্ট তৈরি করতে পারেন এতে মজুরি পান তিন হাজার টাকা এসব কাপড় তৈরিতে পরিশ্রমের তুলনায় মজুরি কম দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে পাহাড়ি নারীরা এই পেশায় জড়িত। বর্তমানে তারা সংসারের খরচ মেটাতে পারলেও পরিশ্রম মজুরি কম হওয়ায় দিন দিন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন 

মিকা দেওয়ান বলেন, ‘দুবাইয়ের এক প্রবাসী বাংলাদেশে এসে অনেক জায়গা ঘুরেছেন উটের কাপড় তৈরির জন্য। তবে এসব কাপড় তৈরির জন্য কাউকে পাননি শেষ পর্যন্ত রাঙামাটিতে এসে কথা বলার পর আমি কাপড় তৈরিতে রাজি হয়েছি এরপর থেকে দীর্ঘ ১৪ বছর  কাজ করে আসছি বর্তমানে ৫০ জনের বেশি নারী কাপড় তৈরি করে সংসার চালাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব কাপড় তৈরি অনেক কষ্টের সময়সাপেক্ষ সেক্ষেত্রে মাসে গড় আয় হয় মাত্র তিন হাজার টাকা অল্প টাকা দিয়ে এখন সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে তাই পেশা বদলানোর কথা ভাবছি।’

সোনামিকা চাকমা বলেন, ‘ কাজ শিখেছি মিকা দেওয়ানের হাত ধরেই তবে জীবিকার তাগিদের বেল্ট বুনলেও পরিশ্রম অনুযায়ী এখন সেই কাঙ্ক্ষিত পারিশ্রমিক পাচ্ছি না এক সেট বেল্ট বুনে মাত্র এক হাজার টাকা পাওয়া যায়।’

ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য মিনু রানী চাকমা বলেন, ‘এলাকার এসব নারী দীর্ঘদিন এই কাজ করে এলেও সময়ের সঙ্গে মজুরি না বাড়ায় পরিশ্রমের মূল্য থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে আলোচনা করেও এখনও কোনো সহায়তা পাননি

রাঙামাটি জেলা পরিষদের মহিলা সদস্য ঝর্ণা খীসা বলেন, ‘জেলা পরিষদ থেকে সরকারি সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি তবে এখনও কিছু করে দিতে পারিনি তাদের জন্য ছাড়া বর্তমানে সুতার দাম বাড়ার কারণে এখন বেল্ট বানানোর ব্যবসা তেমন একটা ভালো হচ্ছে না।’

রাঙামাটির ক্ষুদ্র কুটির শিল্প কর্মকর্তা দীপা তালুকদার বলেন, ‘ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনামূলক বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হয়ে থাকেসেই প্রকল্পটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে তবে সেলাইসহ কয়েকটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে ছাড়া যারা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হতে চান, তারা রাঙামাটির যেকোনো ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা