নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৫ ২৩:৩০ পিএম
আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৫ ২৩:৩৬ পিএম
সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী শ্বশুরের স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। প্রবা ফটো
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বিবাহবহির্ভূত ঘটনা জেনে যাওয়ায় শ্বশুর আহসান উল্যাহকে (৫৫) ধর্ষণের মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে।
সোমবার (১৭ মার্চ) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শ্বশুরের স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা।
ভুক্তভোগী শ্বশুর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আলী আহামদের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আহসান উল্যাহর স্ত্রী হাছিনা আক্তার বলেন, আমার ছেলে প্রবাসে থাকার সুবাদে আরেক টিকটকার এর সঙ্গে আমার পুত্রবধূ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। স্বামী বিদেশ থাকার সুবাদে এই মেয়ে বার বার বিভিন্ন মানুষকে প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করেন। এর নালিশ তার শ্বশুরের কাছে যায়, এ ব্যাপারে তার শ্বশুর তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি অপকটে স্বীকার করে বলেন, আপনার কী কোনো সমস্যা? এক পর্যায়ে আমার ছেলের বউ তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা স্বীকার করে বলেন, হ্যাঁ আমি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক করি। আপনার কোনো সমস্যা আছে? আমি বলে দিচ্ছি আমার এইগুলা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমি আপনাকে জেলের ভাত খাওয়াবো।
তিনি আরও বলেন, এক পর্যায়ে আমরা তার এই অপকর্মের কথা আমার ছেলেকে জানালে ছেলে ধৈর্য ধরতে বলে। যেহেতু তার একটা মেয়ে সন্তান আছে, সন্তানের মায়া মমতায় পড়ে ছেলেটি তার স্ত্রীকে কড়া ভাষায় কিছু বলতেও পারেনি। কিন্তু চোখের সামনে পুত্রবধূর অপকর্মের বাধা দেওয়াতে চোখের কাঁটা হয়ে আজ আমার স্বামীকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনকে অনুরোধ করবো, মিথ্যা এবং সাজানো ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে এই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে আসক্ত মেয়েটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। আমরা ন্যায় বিচার চাই এবং কঠোর শাস্তি চাই।
এ দিকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুরকে গ্রেপ্তারের পর এলাকায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় বইছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একাধিক পোস্ট ও ভিডিওতে দেখা গেছে, শ্বশুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগকারী ওই গৃহবধূ টিকটক ব্যবহার করেন। টিকটকের সূত্রে স্থানীয় আরেক টিকটকার যুবকের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের একসঙ্গে করা একাধিক টিকটক ভিডিও রয়েছে। এসব ভিডিওর কোনোটিতে ওই যুবক তাকে ঘড়ি পরিয়ে দিচ্ছে, কোনোটি একে অপরের হাত ধরে আছেন।
তবে শ্বশুরকে ফাঁসানোর অভিযোগ অস্বীকার করে ওই গৃহবধূ বলেন, যার সঙ্গে টিকটক করেছি, সে আমার পাশের বাড়ির মামা। তার সঙ্গে আমার কোনো বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক সম্পর্ক নেই। আমাকে অপবাদ দিতেই এমন অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর আহসান উল্যাহকে (৫৫) রবিবার (১৬ মার্চ) বিকালে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে গত সোমবার রাত সোয়া ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ পেয়ে শনিবার (১৫ মার্চ) রাতে উপজেলার চরপার্বতী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ভুক্তভোগী ও মামলা সূত্রে জানা যায়, নির্যাতিত গৃহবধূর স্বামী দুবাই প্রবাসী। তিনি তার এক সন্তান নিয়ে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করতেন। শ্বশুর আহসান উল্যাহ বিভিন্ন সময় পুত্রবধূকে কুরুচিপূর্ণ কথাসহ খারাপ কাজের ইঙ্গিত দেয়। ভুক্তভোগী বিষয়টি স্বামী, শাশুড়িকে জানালেও তারা বিষয়টি কর্ণপাত করেননি। গত সোমবার রাত ১০টার দিকে ভুক্তভোগী প্রতিদিনের ন্যায় নিজের কক্ষে কন্যা সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সেহেরি খাওয়ার পূর্বে শ্বশুর কৌশলে পুত্রবধূর কক্ষে প্রবেশ করেন। ওই সময় তিনি পুত্রবধূকে ঘুমন্ত অবস্থায় জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ভুক্তভোগী চিৎকার করতে গেলে শ্বশুর তার মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে যান। পরে ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ বিষয়টি তার স্বামী-শাশুড়িকে জানায় এবং নিজেই বাদী হয়ে এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।