× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দাম নেই, ফুল তুলে মাঠেই ফেলে দিচ্ছে চাষীরা

ঝিনাইদহ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৫ ২১:১০ পিএম

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৫ ২১:১১ পিএম

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে মাঠ থেকে গাঁদাফুল তুলে মাঠেই ফেলে দিচ্ছে চাষীরা। প্রবা ফটো

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে মাঠ থেকে গাঁদাফুল তুলে মাঠেই ফেলে দিচ্ছে চাষীরা। প্রবা ফটো

বাজারে দাম নেই, নেই চাহিদাও। তাই মাঠের পর মাঠ গাঁদাফুল তুলে মাঠেই ফেলে দিচ্ছে চাষীরা। এতে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষীরা। এমন দৃশ্য ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের। জেলার অন্যান্য উপজেলার মাঠের চিত্রও একই রকম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ৪৫হেক্টর জমিতে গাঁদা ফুলের চাষ করেছে কৃষকরা। এ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার  বিভিন্ন মাঠে কৃষকরা বানিজ্যিকভাবে গাঁদা ফুলের চাষ করেছে। কিছুদিন আগে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারী মাসের কয়েকটি দিবসকে কেন্দ্র করে ফুলের ভাল দাম পেলেও বর্তমান চিত্র ঠিক উল্টো।

উপজেলার কুশনা ইউনিয়নের নারায়ণ বাড়িয়া গ্রামের ফুল চাষি মিলন হোসেন জানান, গাঁদা ফুল গাছের নতুন কুঁড়ি বাঁচানোর স্বার্থে গাছের ফোটা ফুল তুলে ফেলে দেয়া হচ্ছে। ১২/১৪ বছর ধরে তিনি  গাঁদা ফুলের চাষ করে আসছেন। এ বছরও ২ বিঘা জমিতে গাঁদা ফুলের চাষ করেছেন। চাষাবাদে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। যা উঠার কোন লক্ষণ দেখছেন না। দাম পেলে ২ থেকে ৩লাখ টাকার ফুল বিক্রি করতে পারবেন।

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে মাঠে মাঠে ফুটে আছে গাঁদাফুল। প্রবা ফটো

কৃষকরা জানিয়েছেন, এক বিঘা জমিতে গাঁদা ফুল চাষ করতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা লাগে। আর ৩ মাসে খরচ বাদে লাভ ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকার ফুল বিক্রি করা যায়।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কোটচাঁদপুরের মাঠে মাঠে হলুদ ও কমলা রঙের গাঁদা ফুল। কোটচাঁদপুরের একরা গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান দেড় বিঘা জমিতে  গাঁদা ফুলের চাষ করেছেন। 

তিনি বলেন, ‘ফুল তোলা, মালা গাঁথা, গাড়ি খরচ মিলে গাঁদা ফুলের ঝুপ্পা প্রতি ২৭ টাকা খরচ হয় কিন্তু এমন দামেও বিক্রি হচ্ছে না ফুল। অথচ ভাল দাম পেলে ২শ থেকে ৩শ টাকা ঝুপ্পা দরেও গাঁদা ফুল বিক্রি হয়।

জেলার সবচেয়ে বড় গান্না ফুল বাজার প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম কোটচাঁদপুররে দাউদ হোসেন। তিনি জানানম, মৌসুম শেষের দিকে হওয়ায় এমনিতে ফুলের মান কিছুটা কমে যায় । তাই দাম কম হয় আর রমজান শুরু হওয়ায় তেমন অনুষ্ঠানাদি নেই ফলে ফুল এখন বিক্রি হচ্ছে না।

কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, এ উপজেলায় সব ইউনিয়নে কম-বেশি ফুলের চাষ হয়ে থাকে। তবে ফুলের প্রকৃত মৌসুম জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি মাস। ওই সময় ফুল উঠলে চাষী দাম ভালো পায়। কারণ সে সময় ফুলের চাহিদা বেশি থাকে। এখন হয়ত বাজারে ফুলের চাহিদা কম। সে কারণে ফুলের দাম কম ও বিক্রি হচ্ছে না।

ঝিনাইদহ জেলা ফুলচাষী সমিতির সভাপতি মো. জামির হোসেন বলেন,  বিভিন্ন ফুল বিপণন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী  সিজন জুড়ে জেলায় গাঁদা ফুলসহ অন্যান্য ফুল মিলে ১শ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়। উৎসবগুলোতে গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা, জারবেরা ও গোলাপ ফুল বেশি বিক্রি হয়।  

ঝিনাইদহ কোটচাঁদপুর- গান্না বাজার ফুল বিপণন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম জানান,  এবছর নতুন করে অনেক চাষি ফুল চাষ করছেন। ঝিনাইদহে যদি ফুল সংরক্ষণ কেন্দ্র (কোল্ডষ্টোরেজ) থাকতো তাহলে দাম কমের সময় সেখানে ফুলগুলো রাখার পর দাম বাড়লে বিক্রি করতে পারত। তিনি বলেন, জেলা জুড়েই অনেক কৃষক তাদের মাঠের ফোটা গাঁদাফুল তুলে ফেলে দিচ্ছে, নতুন কুঁড়ি যাতে ভাল থাকে এবং গাছ সতেজ রাখার জন্যে এভাবে ফুল তুলে ফেলতে হয়।

প্রসঙ্গত, ঝিনাইদহ জেলাতে কোটচাঁদপুর,কালীগঞ্জ, মহেশপুর ও সদর উপজেলাতে ৪শ হেক্টরের বেশী জমিতে গাঁদা, গোলাপ, জারবেরাসহ বিভিন্ন রকমের ফুলের চাষ হয়। এর মধ্যে ২শ ৫০ হেক্টরের বেশী জমিতে গাঁদা ফুলের চাষ হয়। এখানে রবি ও খরিপ দুটি মৌসুমেই অর্থাৎ বছর জুড়েই গাঁদা ফুলের চাষ করেন কৃষকেরা। দেশের সর্বাধিক গাঁদা ফুলের চাষ হয় এই জেলাতেই।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা