ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৫ ১৭:০২ পিএম
অধ্যক্ষের দুর্নীতির অভিযোগে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে ভূঞাপুরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীরা। প্রবা ফটো
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার লোকমান ফকির মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাছান আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীরা।
সোমবার (১৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্রদের কাছ থেকে অনিয়মের মাধ্যমে টাকা নেওয়া, সরকারি গাছ কম দামে বিক্রি করা, আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ বানিজ্য, প্রতিবাদ করায় শিক্ষকদের উপর চাপ প্রয়োগ ও হয়রানি, চাকরির নামে টাকা আদায়, শিক্ষকদের বেতন থেকে অবৈধভাবে টাকা কাটা, অনৈতিকভাবে শিক্ষকদের পদত্যাগে বাধ্য করা, শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কাজে ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়।
শিক্ষার্থী পূজা ও অতশি বলেন, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অপরাধে সাময়িক বহিষ্কার অধ্যক্ষ মো. হাছান আলীকে আমরা স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি।

একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, আমরা এমন একজন অধ্যক্ষ চাই, যিনি আমাদের শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করবেন। দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের অধীনে আমরা আর পড়াশোনা করতে চাই না।
কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অধ্যক্ষের অনিয়মের কারণে আমাদের পেশাগত কাজ করতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা তার স্থায়ী অপসারণ চাই।
সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, অধ্যক্ষ হাসান আলীর বহিষ্কারের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে রিট করলে হাইকোর্ট তার পক্ষে রায় দেন। এই প্রেক্ষিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ গোলাম রব্বানীকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আদেশ দিয়ে অধ্যক্ষ হাসান আলীকে কলেজে যোগদান করার অনুমতি দেন। কিন্তু কলেজ গভর্নিং বডি তার যোগদান গ্রহণ না করায় অধ্যক্ষ হাসান আলী কলেজের তালা ভেঙে অফিস দখল করে। কলেজের তালা ভেঙে অফিস দখলের প্রেক্ষিতে এ মানববন্ধন করা হয়।
সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আব্দুল আওয়াল, রফিকুল ইসলাম, খন্দকার মুজাহিদ, সেলিনা খাতুনসহ কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ হাসান আলী বলেন, মহামান্য হাইকোর্ট আমার পক্ষে রায় প্রদান করেছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ গোলাম রব্বানীকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আদেশ দিয়ে আমাকে কলেজে যোগদান করার অনুমতি প্রদান করেছেন। এ ব্যাপারে আমি গভর্নিং বডির সভাপতির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করি। ব্যর্থ হয়ে অধ্যক্ষের অফিস কক্ষে প্রবেশ করার চেষ্টা করে তালা পরিবর্তন দেখে আমি সেটি ভেঙে অফিসে প্রবেশ করি।