জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৫ ১৬:৪৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জামালপুরে এক নারীকে গলা চেপে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল করিম সুমনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতা সুমনের বিরুদ্ধে জামালপুর থানায় মামলা দায়ের করেছন ভুক্তভোগী নারী জান্নাতুল ফেরদৌস বন্যা। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ফয়সল মো.আতিক।
শুক্রবার (১৪ মার্চ) জান্নাতুল ফেরদৌস বন্যা বাদী হয়ে সুমনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৩৫ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার শহরের রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন শাহপুর এলাকায় জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে জমি বেদখল করে স্থানীয় যুবলীগ নেতা আরিফুল আলম চিকু ও তার অনুসারীরা বাড়িঘর ও স্থাপনায় ভাঙচুর চালিয়ে জোরপূর্বক সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করেন। এ সময় জান্নাতুল ফেরদৌস বন্যা প্রতিবাদ করলে সুমন তাকে গলা চেপে ধরে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
জান্নাতুল ফেরদৌস বন্যা বলেন, "আমার ক্রয়কৃত জমি যুবলীগ নেতা চিকু ছাত্রদল নেতা সুমনকে আর্থিকভাবে প্রভাবিত করে দখলের চেষ্টা চালান। আমি বিষয়টি জানার পর থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আরিফুল আলম চিকুকে আটক করে। অভিযুক্ত চিকুকে আটক করলেও ছাত্রদল নেতা সুমন প্রভাব খাটিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়। মামলার পর থেকে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।"
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা মঞ্জুরুল করিম সুমন বলেন, "বন্যার জমির পাশে আমার ফুফাতো ভাই চিকু ৭-৮ বছর আগে ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ওই জমি নিয়ে বন্যার সঙ্গে চিকুর বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন আমি নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছিলাম। পুলিশ এসে চিকুকে আটক করলে স্থানীয় লোকজন তাকে ছিনিয়ে নেয়। বন্যাকে গলা চেপে ধরার বা হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। আমাকে রাজনৈতিক ভাবে হেয় পতিপন্ন করার জন্য মামলায় আমার নাম দেয়া হয়েছে।"
জামালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ফয়সল মো. আতিক বলেন, জমি সংক্রান্ত মারামারির ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করেছিল, তবে তিনি অপরাধী না হওয়ায় পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত।