মুয়াজ্জিনকে তুলে নিয়ে ‘পায়ে গুলি’
কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৫ ২১:৪৮ পিএম
আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৫ ২২:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে মসজিদের মুয়াজ্জিনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পায়ে গুলি করে পঙ্গু করার অভিযোগে নাঙ্গলকোট থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুউদ্দিন কালু ও পৌর মেয়র আব্দুল মালেকসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (১২ মার্চ) কুমিল্লা জেলা ও দায়রা আদালতে মামলাটি করেন ভুক্তভোগী দৌলখাঁড় ইউনিয়নের বাম গ্রামের মসজিদের মুয়াজ্জিন বেলাল হোসেন। এ মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে নাঙ্গলকোট থানার তৎকালীন ওসি নজরুল ইসলাম সঙ্গীয় পুলিশসহ দৌলখাঁড়া ইউনিয়নের বাম গ্রামের স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন বেলাল হোসেনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের লুদুয়া নামক স্থানে ক্রস ফায়ারের নাটক সাজিয়ে বেলালের পায়ে গুলি করেন। এই অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন তিনি।
মামলার আসামিরা হলেন- কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানার সাবেক (ওসি) নজরুল ইসলাম, সাবেক এসআই বাবুল আলী, নাঙ্গলকোট থানার সাবেক পুলিশ সদস্য সামসুল হুদা, শাহ আলম, মোক্তার হোসেন ও আব্দুস ছাত্তার, নাঙ্গলকোট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সামছু উদ্দিন কালু, সাবেক মেয়র আব্দুল মালেক, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ভূইয়া, ঢালুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান ভূঁইয়া বাছির, সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামসহ ৩১ জন নামীয় ও অজ্ঞাত আরও ১৫ জন।
মামলার বাদি বেলাল হোসেন স্থানীয় বাম মসজিদের মুয়াজ্জিন ও নাঙ্গলকোট উপজেলার দোলখাঁড় ইউনিয়নের বাম পন্ডিতবাড়ি এলাকার আলী হায়দারের ছেলে। বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা চলমান রয়েছে। বর্তমানে তিনি এ সব মামলায় জামিনে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী মুয়াজ্জিন জানান, ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে নাঙ্গলকোটে নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় বেলায়েত হোসেন নামের আরও একজনকে সঙ্গে নিয়ে নাঙ্গলকোটের লুধুয়া এলাকায় নিয়ে নাঙ্গলকোট থানার তৎকালীন ওসি নজরুল ইসলাম দুই পুলিশ সদস্যকে পায়ে গুলি করতে বলেন। তারা গুলি করতে রাজি না হলে ওসি নজরুল ইসলাম আমাদের দুজনকে বাম পায়ের হাঁটু বরাবর আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা করেন এবং তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ মামলায় এক বছর কারাভোগ করতে হয়েছে বলে জানান বেলাল হোসেন।
মুয়াজ্জিন বেলাল হোসেন
মুয়াজ্জিন বেলাল আরও বলেন, ‘গুরুতর আহত অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থাকাকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমাকে ঢাকা রেফার করা হলেও ওসি নজরুল ইসলাম তা হতে দেননি। চিকিৎসার অভাবে আমার পা কেটে ফেলতে হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে অন্যায় আচরণ ও মিথ্যা মামলা করে যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে আমি তৎকালীন ওসি নজরুল ইসলামসহ পুলিশের সাত সদস্য, নাঙ্গলকোট উপজেলার তৎকালীন চেয়ারম্যান ও তৎকালীন পৌরসভার মেয়রসহ ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছি। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। আশা করছি, ন্যায়বিচার পাব।,
মামলার আইনজীবী বদিউল আলম সুজন বলেন, ‘নির্যাতন ও হেফাজতের মৃত্যু নিবারণ আইন ২০১৩ এই ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে নির্দেশনা প্রদান করবেন।’