বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ২০:২৯ পিএম
আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:২৭ পিএম
মেহেরাজ হোসেন ফাহিম হত্যায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বগুড়ায় সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ছবি : প্রবা
বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের (শজিমেক) চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মেহেরাজ হোসেন ফাহিম হত্যায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ হয়েছে।
রবিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পৌনে দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে কলেজের সামনে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মহাসড়কের উভয় দিকে প্রায় ৩ কিলোমিটার জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক ছেড়ে চলে যান। পরে শজিমেকের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. রেজাউল আলম জুয়েল তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।
কলেজের সামনে ভাসমান খাবার দোকানে আলুর চপ খাওয়ার সময় তার ভেতরে ময়লা পেয়ে প্রতিবাদ করায় গত ২৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় ফরিদ নামে এক দোকানির সঙ্গে শজিমেকের শিক্ষার্থী ফাহিমের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ওই দোকানির ছেলে শাকিল তার হাতে থাকা পেঁয়াজ কাটার ছুরি ফাহিমের পেটে ঢুকিয়ে দেয়। রক্তাক্ত ফাহিম ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ২৮ নভেম্বর তাকে ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠীসহ শজিমেকের সব শিক্ষার্থী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে বিকাল ৪টার দিকে তারা হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ ৬ দফা দাবি আদায়ে কলেজের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে অর্ঘ্য রায়, অর্ণব আকন্দ, শৈশব রায় ও আনোয়ারুল আযিম ফাহাদ বক্তব্য রাখেন।
শজিমেক শিক্ষার্থীদের অপর ৫টি দাবির মধ্যে রয়েছে- কলেজের দুই নম্বর গেট থেকে অবৈধ দোকান-পাট উচ্ছেদ, ওই গেট সংলগ্ন নতুন সড়কের মোড়ে বিকেল ৪টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত পুলিশ মোতায়েন, ছাত্রী হোস্টেল, ফিরিঙ্গিও মোড় এবং ভার্সেটাইল মোড়ে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন, ক্যাম্পাসে প্রবেশ পথগুলোতে আনসার মোতায়েন, বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং সন্ধ্যার পর পুরো ক্যাম্পাসে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি অর্ঘ্য রায় জানিয়েছেন, পুলিশ এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি-দাওয়া পূরণের আশ্বাস দেওয়ায় তারা অবরোধ তুলে নেন। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো পূরণ না হয় তাহলে তারা আবারও অবরোধসহ কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
বগুড়ায় পুলিশের মুখপাত্র সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরাফত ইসলাম জানান, শজিমেক ছাত্র ফাহিমকে ছুরিকাঘাতে জড়িত দোকানি শাকিল ও তার বাবা ফরিদকে ঘটনার পর পরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে জেল-হাজতে আটক রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে।
তিনি বলেন, শজিমেকের শিক্ষার্থীদের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে পুলিশের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। আর হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়টি আদালতের বিষয়।