চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৫ ২১:০৫ পিএম
প্রবা ফটো
ডিএনএ রিপোর্টের জন্য ৩ বছর ধরে আটকে থাকা শিশু বর্ষা ধর্ষণ ও হত্যা মামলাসহ সকল ধর্ষণ মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) নগরের প্রেসক্লাবে বর্ষার পরিবারকে নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী পুষ্পিতা নাথ।
তিনি বলেন, “বর্ষা হত্যা মামলায় পুলিশ ধর্ষক লক্ষ্মণ দাশকে গ্রেপ্তার করে এবং সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয় যে, ‘শিশুটিকে সে প্রথমে ধর্ষণ করে, পরে ধরা পড়ার ভয়ে শিশুটিকে সে হত্যা করে লাশ গোপন করার জন্য বস্তায় বেঁধে ড্রেনে ফেলে দেয়।’ সে সময় শিশু বর্ষার এ নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা পুরো দেশবাসীর বিবেককে নাড়া দেয়। স্বাভাবিকভাবেই বর্ষার পরিবারের প্রত্যাশা ছিল তারা দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার পাবেন। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয়, গত ৩ বছরেও বর্ষার পরিবার বিচার দূরে থাকুক, এখনো মামলার কোনো অগ্রগতিরই মুখ দেখতে পায়নি। তদন্তকারী পুলিশ মামলাটির চার্জশিট দিতে পারেনি। দফায় দফায় বর্ষার পরিবার কোতোয়ালি থানায় গিয়েছে। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নওশের কুরেশিকে বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও নানা অজুহাতে পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে চার্জশিট না দিতে পারার কারণ হিসেবে তিনি বারবার ডিএনএ রিপোর্ট যথাসময়ে না পাওয়ার অজুহাত দিয়ে যাচ্ছেন। ডিএনএ রিপোর্ট না আসার অজুহাতে কেন ৩ বছরেও চার্জশিট দেওয়া হলো না? অথচ এ মামলায় গ্রেপ্তার লক্ষ্মণের ১৬৪ ধারায় অপরাধ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী আছে।”
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আছিয়ায় লোমহর্ষক ঘটনা সম্পর্কে আপনারা অবগত আছেন। যেখানে গত ৩ বছর আগে বর্ষার হত্যাকারীর এখনো বিচার হয়নি, সেখানে আছিয়ার ধর্ষণের বিচার কতটুকু নিশ্চিত হবে সে প্রশ্ন থেকে যায়। পেছনে ফিরে তাকালে ধর্ষিতার তালিকা কত লম্বা হতে চলেছে তা দেখা যায়। তনু, নুসরাত, মুনিয়া, আয়াত, আবিদা, পূজা, ইয়াসমিন, বিথিসহ অনেকেই হত্যা, ধর্ষণ ও লাঞ্ছনার শিকার হয়ে এসেছে। আজও তারা সুষ্ঠু বিচার পায়নি। এই দায়ভার রাষ্ট্রকে নিতে হবে।’
এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে অপসারণসহ চার দফা দাবি জানিয়ে এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘অবিলম্বে শিশু বর্ষা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার চার্জশিট প্রদান করে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু ও দ্রুত বিচার করে ধর্ষক ও হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আগামী একমাসের মধ্যে ডিএনএ রিপোর্ট প্রদান করতে হবে। নুসরাত, তনু, মুনিয়া, আবিদা, আয়াত, আছিয়াসহ সারাদেশে অব্যাহতভাবে সকল ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাকাণ্ড ও নারীর প্রতি সহিংসতার সাথে জড়িত সকল অপরাধীর দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণ-নিপীড়ন বন্ধ ও বিচারে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। অনতিবিলম্বে বিভাগীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত, মানসম্মত পূর্নাঙ্গ ডিএনএ ল্যাব স্থাপন, প্রশিক্ষিত পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, ন্যায্য সম্মানি প্রদান করে দ্রুত ডিএনএ রিপোর্ট প্রদানের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ধর্ষণ মামলায় নমুনা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ পদ্ধতি আধুনিকায়ন করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বর্ষার মা ঝর্ণা বেগম, বোন রুবি, আয়েশা, খালাতো বোন ফাতেমা, চট্টগ্রাম আইন কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন, সামাজিক কর্মী হামিদ উদ্দিন প্রমুখ।
এর আগে সোমবার প্রতিদিনের বাংলাদেশে ডিএনএ টেস্টের রিপোর্টের ধীরগতির কারণে ধর্ষণ মামলায় তদন্ত জট নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এরপরই বিষয়টি আলোচনায় আসে।