চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৫ ১৭:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র রমজানে তীব্র পানি সংকটের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম ওয়াসা কার্যালয় ঘেরাও করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দামপাড়া কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ করেন বেশকিছু ভুক্তভোগী। এ সময় তারা অনিয়মিত পানি সরবরাহ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং প্রতিবাদী নানা স্লোগান দেন।
নগরীর ধনিয়ালাপাড়া থেকে এসে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সিরাজুল ইসলাম বলেন, নিয়মিতভাবে আমরা পানি পাইনা। এমনকি পবিত্র এই রমজানের মধ্যেও শনিবার থেকে পানি সরবরাহ বন্ধ। প্রায় সময় পাইপলাইন ফেটে পানি সরবরাহ করে না। যার কারণে আমরা তীব্র পানি সংকটে আছি। আমরা এর একটা বিহীত ব্যবস্থা চাই। তাই ওয়াসা কার্যালয়ে এসেছি।
দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বাসাবাড়ি মসজিদ মাদ্রাসা, স্কুল কলেজ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চট্টগ্রাম ওয়াসার অসহনীয় পানি সংকট দেখা দিয়েছে জানিয়ে মো. সাইফুল নামে আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, নিয়মিত ওয়াসার পানির অভাবে আমরা খুব বেকায়দায় আছি। পানি একবার আসে একবার যায়। এরমধ্যে এই রমজানে তীব্র পানি সংকট। তাই বিষয়টি তাদের কার্যালয়ে এসে অভিযোগ আকারে জানাতে সম্মিলিতভাবে এসেছি।
পরে বিক্ষোভকারীরা চট্টগ্রাম ওয়াসার বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ আনোয়ার পাশার কাছে দ্রুত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি স্মারকলিপি দেন। এ সময় অনাকাঙ্কিতভাবে পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নাগরিকদের দুর্ভোগের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন ওয়াসা কর্তৃপক্ষ।
এ সময় চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার পাশা বলেন, সাগরিকা মোড়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার ১১০০ এমএম ব্যাসের প্রধান সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই কারণে আগ্রাবাদসহ নগরীর ধনিয়ালাপাড়া, দেওয়ানহাটসহ আশপাশের এলাকায় পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। পাইপ মেরামতের কাজ চলছে। আশা শিগগিরই পাইপলাইন মেরামত শেষে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।
এদিকে, চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্র জানা যায়-গত শনিবার (৮ মার্চ) রাত ৮টার পর থেকে নগরীর সাগরিকা এলাকায় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি) এর উন্নয়নকাজ করার সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াসার প্রধান সঞ্চালন লাইন ফেটে ফেলে। এতে নগরীর আগ্রাবাদসহ আশপাশের অন্তত ১৮টি এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, মাটির টপসয়েল থেকে প্রায় ১৫ ফুট নিচে আমাদের প্রধান সঞ্চালন লাইনের একটা পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে কিছু এলাকায় পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামত কাজ শেষ করে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।