এম.এ হান্নান, বাউফল (পটুয়াখালী)
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৫ ২০:৩১ পিএম
আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৫ ২০:৪৪ পিএম
বর্ষা মৌসুম আসার আগেই আগ্রাসী হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর বাউফলের তেঁতুলিয়া নদী। অসময়ে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। এতে আতঙ্কে রয়েছে নদীর পাড়ের চার ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। নদী ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প, হাটা-বাজার, বসত-বাড়ি ও ফসলি জমি। ভাঙন রক্ষায় আগামী বর্ষার আগেই টেকসই পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন নদী পাড়ের মানুষেরা।
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বছরের পর বছর ধরে ভাঙছে তেঁতুলিয়া নদীর দুই পাড়। ভাঙনে বিলীন হয়েছে ধুলিয়া, নাজিরপুর ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের কয়েক হাজার হেক্টর জমি। আসছে বর্ষা মৌসুমের আগেই আগ্রাসী হয়ে উঠেছে প্রমত্তা তেঁতুলিয়া। ভাঙন শুরু হয়ে নদীর পাড়। ভাঙন হুমকিতে হয়েছে নাজিরপুর ইউনিয়নের ধানদী, নিমদী, তাতেরকাঠি, নদী বেষ্ঠিত ইউনিয়ন চন্দ্রদ্বীপের চর ব্যারেট, দিয়ারা কচুয়া, চর রায়সাহেব, ধুলিয়া ইউনিয়নের চর বাসুদেবপাশা, মঠবাড়িয়া এলাকায়। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষ। ঝুঁকিতে রয়েছেন নিমদী লঞ্চঘাট, নিমদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালাইয়া-নিমদী পাকা সড়ক, চর ব্যারেট আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ রাস্তা-ঘাট, বসতবাড়ি ও ফসলি জমি।
নাজিরপুর ইউনিয়নের নিদমী গ্রামের বাসিন্দা মো. মো. শামিম বলেন, কয়েক বছর অব্যাহত ভাঙনে একরের পর একর জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভিটে মাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে অনেকে। বর্ষা আসার আগেই আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এখনই ভাঙন রক্ষায় টেকসই ব্যবস্থা না নিলে নিমদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদী গর্ভে হারিয়ে যাবে।
নাজিরপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. মুজাহিদ বলেন, ‘ভাঙনে সব কিছু হারিয়ে মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। নদী ভাঙন রক্ষায় টেকসই বেড়িবাধের দাবিতে কয়েক বছর ধরে এলাকাবাসী মানববন্ধন, স্মারকলিপিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। মানুষের বসতবাড়ি, ভিটে মাটি রক্ষার জন্য বর্ষার আগেই ভাঙন রক্ষায় প্রকল্প নেওয়া উচিত।
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে বাসিন্দা মো. সিদ্দিুকর রহমান জানান, চন্দ্রদ্বীপের চারপাশে নদী। দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙলেও সরকার ভাঙন রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বিশেষ করে চরব্যারেট, চর রায়সাহেব, নিমদীর চর ও দিয়ারা কচুয়া এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিতে পড়েছে চর ব্যারেট আশ্রয়ণ কেন্দ্র। অচিরেই ব্যবস্থা না নিলে এ আশ্রয়ণ প্রকল্প রক্ষা করা যাবে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙন রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হবে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘ভাঙনকবলিত এলাকা পরির্দশন করে প্রকল্প অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন পেলেই ভাঙন রক্ষায় কাজ শুরু হবে।’