রংপুর অফিস
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৫ ১৮:৫৭ পিএম
প্রবা ফটো
তিস্তা নিয়ে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের উপর জোর দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ লক্ষ্যে তিস্তা নদী বেষ্টিত উত্তরের ৫ জেলা অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা পাওয়ার চায়না।
সোমবার (১০ মার্চ) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে তিস্তপাড়ের মানুষ, তিস্তা নদীরক্ষা আন্দোলনকারী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ অংশীজনদের অংশগ্রহণে ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনঃরুদ্ধার প্রকল্প’ নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সালের সভাপতিত্বে সভায় প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন, পাওয়ার চায়নার সিনিয়র এক্সপাট মকবুল হোসেন।
তিনি জানান, ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনঃরুদ্ধার প্রকল্প’ এর মাধ্যমে উত্তরের ৫ জেলা লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় ১১০ কিলোমিটার নদীতে ১ হাজার ৩৩০ লক্ষ ঘন মিটার ড্রেজিং করা হবে। পুরো নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজ, নদীর দু’ধারে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজ, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও মেরামত কাজ, নদীর দু’ধারে রোড নির্মাণ কাজ, ১৭০ দশমিক ৮৭ বর্গ কিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন কাজ এবং পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষায় কাজ করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে গ্রোয়েন নির্মাণ ও তীর প্রতিক্ষার কারণে নদী ভাঙ্গন রোধ হবে, বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজের মাধ্যমে বন্যা ঝুঁকি হ্রাস হবে, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও নদী পুনরুদ্ধার হবে। খননকৃত মাটি ভরাট করে নদীর তীরবর্তী ভুমি পুনরুদ্ধার করে উক্ত জমির উপর অর্থনৈতিক অঞ্চল, পাওয়ার প্লান্ট, স্যাটেলাইট টাউন নির্মাণ, সেচ ও কৃষি ব্যবস্থা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করা, শুস্ক মৌসুমে সেচ কাজে ব্যবহারের জন্য বর্ষাকালে শাখা নদীসহ ব্যারেজের উজানে তিস্তা নদীতে প্রয়োজনীয় পানি সংরক্ষণ করা এবং শুস্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ করে প্রকল্প এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নদীপাড়ের ১১ হাজার ২৩৯ কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা পাবে।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড উত্তরাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মাহবুবর রহমান, তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান, জেএসডি’র জেলা সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি, জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকু, মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, গঙ্গাচড়া বিএনপি নেতা ওয়াহেদুজ্জামান মাবু, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক ইমরান আহমেদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আলমগীর কবিরসহ অন্যরা।
এ সময় বক্তারা, তিস্তা পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়, পানি সংরক্ষণ, পলি ব্যবস্থাপনা, উত্তরের ৫ জেলার কৃষি রক্ষা, শিল্প-কারখানা স্থাপনসহ তিস্তা নিয়ে টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং উত্তরের জীবন-জীবিকা ও জীব-বৈচিত্র রক্ষায় মেগা প্রকল্প ছাড়া তিস্তায় বিচ্ছিন্ন কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন না করার আহ্বান জানান। এ সময় পাওয়ার চায়নার কান্ট্রি ম্যানেজার হান কুনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।