সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ১৮:০৯ পিএম
আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ১৮:১৭ পিএম
অলঙ্করণ : জয়ন্ত জন
ভারত সীমান্তবর্তী সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় রাস্তার পাশ থেকে এক গৃহশিক্ষকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মোক্তার হোসেন উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের তেলিজুরী গ্রামের রহমত উল্লাহর ছেলে। প্রতিবেশীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ও জমির বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে রহমত উল্লাহর সন্দেহ। এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
নিহত মোক্তারের বাবা রহমত উল্লাহ বলেন, শনিবার (৩ ডিসেম্বর) মাগরিবের নামাজ পড়ে মোক্তার বাড়ি থেকে বের হন। রাতে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টিকে তারা সেভাবে গুরুত্ব দেননি। পরিবারের লোকজন ভেবেছিলেন, হয়তো খেলা দেখতে কোথাও দেরি করছে। সকালে লোকজনের কাছে শুনতে পান, মোক্তারের মরদেহ রাস্তার পাশে পড়ে আছে। খবর শোনার পর তার মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।
রহমত উল্লাহ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বলেন, ‘একজন প্রতিবেশীর সঙ্গে মোক্তারের আর্থিক লেনদেন ও জমিসংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হতে পারে। কয়েকজনকে সন্দেহ করছি। বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। অতীতে আমাকেও হত্যার চেষ্টা হয়েছে।’
দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার হতাকাণ্ডের খবর জেনেছেন। তবে এর পেছনে কোনো দ্বন্দ্ব ছিল কি না সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি। তিনি খুনিকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর আহমেদ বলেন, রবিবার সকাল ৬টার দিকে তার এলাকাবাসীর কাছে রাস্তার পাশে লাশ পড়ে থাকার খবর পান। উপজেলার সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের তেলিজুরী সংযোগ সড়কের পাশ থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয়দের বরাতে ওসি বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে মোক্তারকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৬ সালে মোক্তার একটি শিশুর পিঠ কেটে ফেলেছিলেন। এ ঘটনায় মোক্তারকে ধরে পুলিশে দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গেও মোক্তারের বিরোধ ছিল। পুলিশ খুনিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।