চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৫ ১৭:৫৪ পিএম
আমাদের সমাজে এমন অনেক অসহায়-নিঃস্ব মানুষ আছেন, যারা সেহরি ও ইফতারে সামান্য খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খায়। বছরের অন্য সময় কোনোভাবে চলে গেলেও বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে তারা আরও দুর্ভোগ ও দুর্দশায় আছেন। অনেক মানুষ লজ্জায় মানুষের কাছে চাইতেও পারেন না। এ ধরনের মানুষদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া সামর্থ্যবান প্রতিটি মানুষের নৈতিক ও সামাজিক কর্তব্য।
এই বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে দুঃস্থ রোজাদারদের পাশে দাঁড়াতে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন প্রতিবছরের মতো এবারও দেশব্যাপী ‘এক টাকায় রোজার বাজার’ পরিচালনা করছে। চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সহযোগিতায় প্রতিদিন হাজারো ছিন্নমূল রোজাদারদের ইফতার-সেহরি খাওয়ানোর পাশাপাশি নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য ‘এক টাকায় রোজার বাজার’ এর আয়োজন করেছে।
সোমবার (১০ মার্চ) সকাল ১১টায় নগরীর বিপ্লব উদ্যানে এই বাজারের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
চসিক মেয়র বলেন, বিদ্যানন্দের এই মহতি ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ ‘এক টাকায় রোজার বাজারে’ এসে আমার মনে হচ্ছে-শায়েস্তা খার আমল ফিরে এসেছে। অভাবী মানুষজন এখান থেকে এক টাকা মূল্য পরিশোধ করে হাজার টাকার অধিক পণ্য বাছাই করার স্বাধীনতা পাচ্ছে। এই আইডিয়া অভাবনীয় প্রশংসার দাবি রাখে। বিদ্যানন্দ থেকে দেখে যদি সমাজের অন্যান্য বিত্তবানেরা মানুষের পাশে এগিয়ে আসেন তাহলে এই রমজানে মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিম্নআয়ের মানুষজন নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত এসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী নিচ্ছেন। তাদের চোখে-মুখে হাসি। কারণ কোনো ভিক্ষা নয় মাত্র এক টাকা দিয়ে তারা নিজেদের পছন্দে হাজার টাকার বাজার করার সুযোগ পেয়েছেন। এই বাজারে দেখা মিলেছে, চাল, ছোলা, ডাল, তেল, ডিমসহ ২১ রকমের পণ্য একটি পরিপূর্ণ সুপারশপ। এখানে পাওয়া যাচ্ছে এক টাকায় ১ কেজি চাল, দুই টাকায় ১ কেজি ছোলা, দুই টাকায় ১ ডজন ডিম, চার টাকায় ১ লিটার তেল কিংবা ছয় টাকায় ১টি মুরগি। যদিও তারা মাত্র এক টাকা দিয়ে ২০টি টোকেন মানি পান। যেটি দিয়ে তারা বিভিন্ন কাউন্টারে গিয়ে বাজার করার সুযোগ পাচ্ছেন। বাজারের সিস্টেম বুঝিয়ে দিতে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছেন।
বিদ্যানন্দের গভর্নিং বডির পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘রমজান মাসকে বলা হয় ‘সহমর্মিতার মাস’। কেননা এক মাসের রোজা পালনের দ্বারা রোজাদার ক্ষুধার্ত মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়। এর ফলে তার অন্তরে আর্ত-পীড়িত ও ব্যথিত মানবগোষ্ঠীর প্রতি সহমর্মিতা জাগে। রোজাদারের উচিত তার এই জাগ্রত সহানুভূতিকে কাজে লাগানো এবং তাদের ব্যথা উপশমে কার্যকরি ভূমিকা রাখা। তা বুদ্ধি-পরামর্শ ও কায়িক সহযোগিতা এবং দান-দক্ষিণা বিভিন্নভাবেই হতে পারে। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন ও তার স্বেচ্ছাসেবী দাতারা সেই কাজটিই বছরের পর বছর করে যাচ্ছে। আজকেই এই বাজারে ৫০০ শতাধিক দরিদ্র পরিবার এক টাকা দিয়ে কমপক্ষে ১ হাজার টাকার নিত্যপণ্য নিয়ে যেতে পারবেন। যা তাদের এই দুঃসময়ে একটি হলেও স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন, পাঁচলাইশ থানার ওসি মো. সোলেমান, মেয়রের একান্ত সচিব মারুফুল হক মারুফ, রাজনৈতিক সচিব জিয়া উদ্দিনসহ আরও অনেকে।