হাবিব ওসমান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৫ ১২:২৩ পিএম
কালীগঞ্জে অনুমোদনহীন কারখানায় নোংরা পরিবেশে উৎপাদন করা হয় বোতলজাত পানি। রবিবার তোলা। প্রবা ফটো
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে অনুমোদনহীন একটি কারখানায় নোংরা পরিবেশে উৎপাদন করা হচ্ছে বোতলজাত পানি। জেরিন প্যাকেজড ড্রিংকিং ওয়াটার নামে উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের হযরত আলীর ছেলে সাকাওয়াত হোসেন নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এই পানির ব্যবসা করছেন বলে জানান স্থানীয়রা। কারখানা নির্মাণে মানা হয়নি কোনো রকমের বিধি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশুদ্ধ বোতলজাত পানি সরবরাহের কারখানা নির্মাণে সায়েন্স ল্যাবরেটরি, আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি), বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) অনুমোদনসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রিমিসেস সার্টিফিকেট, শ্রমিকদের শারীরিক সুস্থতার সনদ, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও কলকারখানার সনদের বিধান রয়েছে। কিন্তু জেরিন প্যাকেজড ড্রিংকিং ওয়াটারের কোনোটাই নেই। এসব বিধিবিধান অমান্য করেই বারবাজার, মান্দারতলা, সূবর্ণসারা, সাতমাইল, চুড়ামনকাঠিসহ বিভিন্ন বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে বোতলজাত এই পানি।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, শীতের সময় প্রতিদিন ৫০-৬০টি পানির জার বিক্রি হয়। গরমের দিনে হয় ২৫০ থেকে ৩০০টি। বিভিন্ন বাজারে নসিমনে করে এই পানি বিক্রি করে থাকে তারা। ২০ লিটার পানির প্রতিটি জার ৪০-৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। পানির ক্ষতিকর দিকগুলো না জেনে বিশ্বাস করে এবং প্রয়োজনের তাগিদে ব্যবহার করছে বাজারের বিভিন্ন ব্যাংক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা দপ্তর।
সরেজমিন দেখা যায়, পরিত্যক্ত একটি রান্নাঘরে গড়ে উঠেছে জেরিন প্যাকেজড ড্রিংকিং ওয়াটারের কারখানা। পাশেই রয়েছে গোসলখানা ও শৌচাগার। পরিত্যক্ত যে ঘরে বিশুদ্ধ পানি প্যাকেজিং হয়, সেই ঘরে রয়েছে বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপদ্রব। ঘরটির ওপরের অর্ধেকটাতে ভাঙাচোরা টিন ও অর্ধেকটায় ভাঙাচোরা টালির ছাদ। কাজে নিয়োজিত দুজন শ্রমিক, তাদের হাতে নেই কোনো গ্লাভস ও শরীরে অ্যাপ্রোন। পায়ে থাকে না স্যান্ডেল। বোতল পরিষ্কার বা ধোয়ার কাজে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ব্যবহারের কথা থাকলেও ব্যবহার হচ্ছে পানি।
পানি সরবরাহের কোনো বৈধ কাগজপত্র আছে কি না জানতে চাইলে জেরিন প্যাকেজড ড্রিংকিংয়ের মালিক সাকাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সব আছে তবে দেখানো যাবে না।’ ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি দাবি করেন, তাদের পরিচালিত কারখানার ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে। এ ছাড়া দপ্তরে অন্যান্য অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ঝিনাইদহ কার্যালয়ের কর্মকর্তা নিশাত মেহের বলেন, কোনোভাবেই নোংরা পরিবেশে ড্রিংকিং ওয়াটার সরবরাহ বা প্যাকেজিং হতে পারে না। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।
কুষ্টিয়া বিএসটিআই সহকারী পরিচালক (সিএম) দেবব্রত বিশ্বাস বলেন, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ড্রিংকিং ওয়াটারের এমন কোনো কারখানার অনুমোদন নেই। শিগগির অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করব।
পরিবেশ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহ কর্মকর্তা মুনতাসিরুল রহমান বলেন, সব কাগজপত্র না থাকলে কোনোভাবেই ড্রিংকিং ওয়াটার প্লান্ট করতে পারবেন না। বিষয়টি আমরা দেখব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেদারুল ইসলাম জানান, এমন কোনো বিষয় জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।