মাগুরা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৫ ২০:৩৬ পিএম
প্রবা ফটো
মাগুরায় আট বছরের শিশু ধর্ষণের বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও সদর থানা ঘেরাও করেছেন বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
শুক্রবার (৭ মার্চ) জুম্মা নামাজের পর শহরের ভাইনার মোড়ে এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ শেষে থানা ঘেরাওয়ের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, নামাজের পর ঐতিহাসিক নোমানী ময়দানে জড়ো হতে থাকে বিক্ষুব্ধ জনতা। এরপর চৌরঙ্গী মোড় হয়ে ভাইনার মোড়ে এসে সমবেত হোন তারা। সেখানে এক ঘণ্টা রাস্তায় চলাচলরত সমস্ত যানবাহন বন্ধ করে ধর্ষকের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ জানাতে থাকেন। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে মাগুরা সদর থানায় যান বিক্ষুব্ধ জনতা।
তারা জানান, থানার প্রধান গেট বন্ধ থাকায় বিক্ষুব্ধ জনতা থানার গেটটি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে। থানার মধ্যে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে বুঝিয়ে নিভৃত করার চেষ্টা করে। তাদের এই চেষ্টা ব্যর্থ হলে কিছুক্ষণ পরেই সেনাবাহিনী এসে বিক্ষুব্ধ জনতাদের ছত্রভঙ্গ করতে সক্ষম হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তার চারদিক দিয়ে অবস্থান নেয়।
এই ঘটনায় বিকাল চারটা পর্যন্ত শহরজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। বন্ধ ছিল সমস্ত দোকানপাট। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শহরের যান চলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বৃহস্পতিবার শিশুটির বড় বোনের অভিযোগ অনুসারে তার শ্বশুর হিটু শেখকে শহরের নীজনান্দুয়ালী নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। এরপর শিশুটির মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে শিশুটির দুলাভাই সজীব শেখকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী শিশুটি ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিচ্ছে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু বিক্ষুব্ধ জনতা বিচার যেন নিজেরাই হাতে তুলে নিতে চায়।
থানার গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টার বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে দুইজনকে আটক করেছি। তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি। তার আগেই বিক্ষুব্ধ জনতা থানার গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টায় লিপ্ত ছিল। সেনাবাহিনী এবং পুলিশ মিলে সেটাকে নিভৃত করেছে। এই ঘটনাই যারা জড়িত, অবশ্যই তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হবে।