চাঁদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৫ ২২:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুরে সদরে মামাতো দুই ভাই-বোনকে দেখাশোনার জন্য বাড়িতে রাখা এক তরুণীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই তরুণীর মামা ও মামিকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) বিকালে শহরের মাদ্রাসা সড়কের মোল্লা বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই তরুণীকে উদ্ধার করা হয় বলে জানান চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. বাহার মিয়া।
আটকরা হলেন- ওই বাড়ির আবুল মোল্লার ছেলে রুবেল মোল্লা ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম। রুবেল ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন।
রুজিনা চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামের আলী আহম্মদ ভুঁইয়ার মেয়ে।
এলাকার মোরশেদ আলম ও ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘রুজিনাকে রাস্তার পাশে কান্না করতে দেখে আমরা এগিয়ে গেলে সে নির্যাতনের কথা বলে। এ ছাড়া মামার বাসা থেকে সে পালিয়ে এসেছে বলে জানায়। পরে আমরা তার অবস্থা দেখে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করি। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মামা রুবেল মোল্লা ও মামি রোকেয়াকে আটক করে।’
রুজিনা বলেন, ‘ছয় মাস আগে তাকে মামার বাসায় কাজের জন্য নিয়ে আসেন। কাজ করার সময় কারণে অকারণে তার মামি মারধর করতেন। কোনো ভুল হলেই মারধরসহ গালমন্দ করতো। কাজ করলে ভুল হতেই পারে। আমাকে কাঠ ও দা দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করতো। গত ৪ মাস ধরে এভাবে মারধর করে আমাকে। মামা কয়েকবার ওষুধ এনে দিয়েছে, কিন্তু জখম ভালো হয় না।’
এ দিকে ঘটনার খবর পেয়ে রুজিনার বাবা আলী আহম্মদ ভুঁইয়া বলেন, ‘আমার মেয়ে এমন নির্যাতনের শিকার আমি জানতাম না। তার মামাকে বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য বললে, বলতো পরে নিয়ে আসব। রুজিনা ঢাকায় আমার বড় মেয়ের কাছে ছিল। সেখান থেকে আমাকে না জানিয়ে রুবেল তার বাসায় নিয়ে যায়। রোকেয়া আমার মেয়েকে এমন নির্যাতন করেছে, কেউ না দেখলে বিশ্বাস করবে না। এই মহিলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করি।’
ওসি বাহার মিয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়। এবং মেয়েটির পরিবারকেও জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত মামা-মামিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’