ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৫ ১৯:৩৭ পিএম
আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৫ ১৯:৫৪ পিএম
সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। প্রবা ফটো
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে দলবল নিয়ে সড়কে গাছ ফেলে ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের নেতা মো. একরামের বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার ভুজপুর থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
বুধবার (৫ মার্চ) ভোর রাতে গহিরা-হেঁয়াকো সড়কের নারায়ণহাট ইউনিয়নের নন্দীর স্কুল সংলগ্ন স্লুইচগেইট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের নারায়ণহাট রেঞ্জের আওতাধীন দাঁতমারা বনবিটের বড়ইতলী প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন এলাকা থেকে ৬ জনকে আটক করে পুলিশে দেয় বিক্ষুদ্ধ জনতা। তারা রাতের আধাঁরে বাগানের গাছ কাট কেটে নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় আটকদের কাছে থাকা ৯টি মোটরসাইকেল এবং কেটে ফেলা বিভিন্ন প্রজাতির ১৫টি গাছ জব্দ করা হয়।
এ সময় পুলিশের হাতে আটকরা হলেন- মো. জাহেদ (২৫), মো. বোরহান (২৬), আকিব উদ্দিন (২৭), কুদ্দুস মিয়া (৩৫), আশিক (২৫) ও মনা মিয়া (২৯)। তারা সকলেই যুবদল নেতা একরামুল হকের অনুসারী এবং স্থানীয় বাসিন্দা।
বিষয়টি অস্বীকার করে সাংবাদিকদের একরাম বলেন, ‘গভীর রাতে ঘুমেই ছিলাম। চোরাই গাছ কাটা বিষয়ে কিছুই জানি না। সকালে লোক মুখে শুনেছি, গাছ কাটা বন্ধ করতে সেখানে কিছু নেতাকর্মী জনরোশের শিকার হন। দলের কেউ অপরাধে জড়িত নয় বলে তাদের ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবু তাহের বলেন, ‘যুবদল নেতা একরামের নেতৃত্বে কিছু যুবক রাতে সেখানে গাছ কাটার জন্য জড়ো হন। রাত গভীর হলে দল ভারি হতে থাকে। সেহরির সময় তারা এসব গাছ কেটে নেন। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পুলিশ তাদের থানায় নেওয়ার পথে ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ি গতিরোধ করে মোটরসাইকেলমহ তাদের ছিনিয়ে নেয়।’
দাঁতমারা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শফিউল আজম চৌধুরী বলেন, ‘দলের ভাবমূর্তিক্ষুণ্ন হয় এমন কাজ চরম অন্যায়। যদি এ ঘটনার সঙ্গে দলের কেউ জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।’
দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহকারি উপপরিদর্শক (এএসআই) শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আটকদের নিয়ে নেপচুন চা-বাগান হয়ে থানার দিকে যাচ্ছিলাম। এ সময় বিএনপি নেতা একরামুল ও ছাত্রদল নেতা ইয়াকুব চৌধুরীর নেতৃত্ব শতাধিক লোক স্লুইচগেইট এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে আটকদের ছিনিয়ে নেন।’
ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুবুল হক বলেন, ‘এই মুহুর্তে ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত। আমরা বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’