ফরিদপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ১৪:৩৮ পিএম
আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:০০ পিএম
ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ছবি : প্রবা
ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশপাশের অন্তত ১০টি জেলার রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতালটিতে হঠাৎ করে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা।
তাদের অভিযোগ, হাসপাতালটির বিভিন্ন ওয়ার্ড ও টিকিট কাউন্টারে গত দুই মাসে অন্তত শতাধিক চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন অজুহাতে সারা রাত বিভিন্ন ওয়ার্ডে টহল দেন বহিরাগতরা। অনেকেই অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার বা ওষুধের দোকানের প্রতিনিধি পরিচয়ে দলবেঁধে ওয়ার্ডের ভেতরে আসা-যাওয়া করেন। এতে হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।
কিছুদিন আগে রাতে মোবাইল চুরির অভিযোগ তুলেছেন মেডিসিন ওয়ার্ডে থাকা এক রোগীর স্বজন। এর কয়েকদিন আগে আউটডোরে চিকিৎসা নিতে মোবাইল চুরি যাওয়ার কথা জানিয়েছেন পারুল আক্তার ও শিউলী বেগম নামে আরও রোগী।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ওই স্বজন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সারা রাত জাগার পর শেষ রাতে কোনোমতে আধাঘণ্টা ঘুমাতে গিয়েছিলাম। উঠে দেখি মোবাইল নেই। এরকম আরও আট থেকে ১০ জনের মোবাইল ও টাকা-পয়সা চুরি হয়েছে।’
হাসপাতালে সেবা নিতে আসা একাধিক রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসা নিতে আসা নারীদের প্রথম টার্গেট করে চোরের দল। হাসপাতালটিতে বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা নিতে আসা প্রায় অর্ধশতাধিক নারীর স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল খোয়া গেছে। সম্প্রতি হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এক নারী। ছিনতাইকারীরা তার প্রায় এক লাখর টাকার স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। বিষয়টি বেশ আলোচিতও হয়েছিল।
ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে দালাল, চোর ও ছিনতাইকারীদের ধরে পুলিশে দেওয়া হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় কোনো অভিযোগ বা মামলা করে না। এতে সহজেই তারা ছাড়া পেয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এছাড়া হাসপাতাল প্রশাসনকে মৌখিকভাবে চুরি-ছিনতাইয়ের অভিযোগ জানানো হলেও তারা প্রতিনিয়তই বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। এ কারণে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও বাড়ছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. এনামুল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘হাসপাতালে কিছু চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে শুনছি। তবে ভুক্তভোগী কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ না দেওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ায় একটু সমস্যা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের এ ব্যাপারে বারবার সতর্কতা দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। তাই এখনও সার্বিক বিষয়ে বিস্তারিত জানা হয়নি এবং বিষয়গুলো প্রশাসনকে জানানো হয়নি। এ ব্যাপারে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’