বাউফল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৫ ২১:৫০ পিএম
আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৫ ২১:৫২ পিএম
শিক্ষক হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রবা ফটো
পটুয়াখালীর বাউফলে ইন্দ্রকুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আলতাফ হোসেনকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি ও গালিগালাজের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল পালিত হয়।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহনকারীরা শিক্ষককে হুমকিদাতা আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এর আগে গত সোমবার বিকালে ওই শিক্ষক জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে বলা হয়, জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক আইনজীবী গত শনিবার মুঠোফোনে ওই শিক্ষককে হত্যার হুমকি দেন।
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর জেলা বিএনপির আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এ ছাড়া তিনি পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর।
ওই শিক্ষককে দেওয়া হুমকি ও গালাগালের কলরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে ইন্দ্রকুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইসলাম ধর্ম) আলতাফ হোসেন বলেন, ‘সম্প্রতি বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠনের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে তিন জনের তালিকা পাঠিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। কমিটির সভাপতি হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন ওই আইনজীবী। তালিকায় তার নাম প্রস্তাব না করায় তিনি আমাকে দায়ী করে হত্যার হুমকি দেন এবং অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন। বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানিয়েছি এবং তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।’
এ দিকে ভাইরাল কল রেকর্ড প্রসঙ্গে আইনজীবী জাহাঙ্গীর বলেন, ‘কলরেকর্ড ভাইরাল হওয়া ভালো, এতে অসুবিধা নেই। সে গালমন্দ পায় দেখে তাকে গালাগাল করেছি। আলতাফ আমার ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে বিমা করার জন্য তিন লাখ টাকা নিছে। সেটা ফেরত দেয় না, তাই গালমন্দ করেছি। তাকে মাইরে মাফ নাই। টাকা ফেরত দিবে, নইলে মাইর খাবে সোজা কথা।’
সভাপতি মনোনয়ন সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এখানে সভাপতি সংক্রান্ত বিষয় নেই। এখন না হই, ছয় মাস পরে সভাপতি হব। স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ সভাপতি হিসেবে তিনজনের নাম দিছে, আমার নাম দেয় নেই। এখন এটা তো আর শেষ নয়, সামনে দল (বিএনপি) ক্ষমতায় আসলে ডিসির অনুমতিও লাগবে না। ছয় মাস অপেক্ষা করতে অসুবিধা নেই। আলতাফকে একটা জিডি কইরা মামলা করতে বলেন। খুনের হুমকির ধারায় মামলা করতে পারবে, তাতে জাহাঙ্গীর উকিলের কিছু হয় না।’
প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জাহাঙ্গীর তাকেও গালমন্দ করেছেন এবং হুমকি দিয়েছিলেন। কমিটির সভাপতি মনোনয়নের বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয় যাচাই-বাছাই করে সভাপতি মনোনয়ন দেন।’
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হবে। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’