× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রসবকালে নবজাতকের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন, তদন্ত কমিটি গঠন

পাবনা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৫ ২১:৩৯ পিএম

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৫ ২১:৪৭ পিএম

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রসূতি নারী। মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে। প্রবা ফটো

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রসূতি নারী। মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে। প্রবা ফটো

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক প্রসূতির প্রসবকালে নবজাতকের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। তবে চিকিৎসকদের দাবি, গর্ভে থাকতেই নবজাতক মারা গিয়েছিল। পরে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে পেট থেকে নবজাতকের মাথা বের করা হয়।

মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সকালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের লেবার গাইনি ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। পরে এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ গাইনি চিকিৎসক ডা. নার্গিস সুলতানাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

অন্য দুই সদস্য হলেন- হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. জাহিদুল ইসলাম ও গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ফাতেমা মাসুর।

তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো অভিযোগ করেনি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে ভুক্তভোগী ওই নারী হাসপাতালের লেবার গাইনি ওয়ার্ডের ২১ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

ভুক্তভোগী নারী পাবনার আতাইকুলা ইউনিয়নের আতাইকুলা গ্রামের দুবাই প্রবাসী রমজান খাঁর স্ত্রী শিউলী খাতুন। দুই সন্তানের জননী শিউলী তৃতীয় সন্তান গর্ভে ধারণ করেছিলেন।

হাসপাতাল ও রোগীর স্বজনরা জানান, গর্ভবতী মা প্রথম থেকেই পাবনার গাইনী চিকিৎসক শাহীন ফেরদৌস শানুর নিয়মিত রোগী ছিলেন। হঠাৎ করেই মঙ্গলবার ভোররাতে প্রসবব্যথা ওঠলে পরিবারের সদস্যরা তাকে সেহেরির পরপরই ডা. শানুর শহরের বাসার চেম্বারে নিয়ে আসেন। সেখানে প্রাথমিকভাবে দেখে চিকিৎসক অবস্থা জটিল মনে করে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন।

এ সময় রোগীর স্বজনরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. দীপা মর্জিনা রোগীর প্রাথমিক পরীক্ষা করে পেটের বাচ্চা মৃত বলে জানান। তবে পরিবারের সদস্যদের দাবি, বাচ্চা মৃত সেটি পরে জানতে পেরেছেন তারা। পরে হাসপাতালের ধাত্রী নরমাল ডেলিভারী করানোর সময় নবজাতকের মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পেটের ভেতরে রয়ে যায়। তারপর সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে পেট থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা বের করা হয়৷ 

ঘটনার বিষয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান বলেন, রোগীর অবস্থা এখন ভালো আছে। গাইনি চিকিৎসক নার্গিস সুলতানাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিবেন। এর পরে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সহকারী পরিচালক আরও বলেন, রাত বা সকালে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা ওই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রসবের কাজটি করা উচিৎ ছিল। এ ঘটনায় চিকিৎসকসহ যারা ছিলেন, তাদেরকে আমি ডেকে পাঠিয়েছি। সকলের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত ঘটনা কি হয়েছিল জানা যাবে।

ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রধান গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. নার্গিস সুলতানা বলেন, এ নারীর পেটে বাচ্চা মৃত অবস্থায় ছিল। মৃত বাচ্চা নিয়েই তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তার পেটের বাচ্চার বয়সও পরিপূর্ণ ছিল না। মাত্র সাত মাসে পড়েছে। সেই সময়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেই মায়ের পেটের ও জরায়ুর অবস্থা দেখে বাচ্চা মৃত বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যদের। আমরা বিষয়টি নিয়ে মায়ের পরিপূর্ণ সেবা প্রদানসহ তার জন্য কী কী করণীয় সেটির ব্যবস্থা করেছি।

ডা. নার্গিস সুলতানা আরও জানান, পেটে থাকা মৃত শিশুটির বয়স কম হওয়াতে তার শরীরের কোনোকিছুই শক্ত ছিল না। এমনকি ওই শিশুটির দেহের মাথার অংশ পেটের উপরে ও পা নিচের দিকে ছিল। নরমাল প্রসব করানোর সময় সেবিকারা জোড়ে টান দিলে ঘাড় থেকে মাথা ছিঁড়ে যায়। পরে সিজার করে তার পেট থেকে মৃত শিশুর অবশিষ্ট অংশ, মাথা বের করা হয়েছে। এ ঘটনা কেন হয়েছে, কোনো অসাবধানতা ছিল কি না- সেটি তদন্ত করে দেখছি আমরা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা